১২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক কল রেকর্ডেই সূত্র ধরে মা মেয়ের হত্যার চিত্র!

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৭ Time View

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রায় তিন দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম
আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এর আগে গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে তার স্বামী রাব্বির সঙ্গে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জানায়, কোনো ডিজিটাল ক্লু না পাওয়ায় তদন্তকারীরা ‘ম্যানুয়াল’ উপায়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সময় গত এক বছরের গৃহকর্মী জড়িত চুরির মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হয় এবং গলায় পোড়া দাগের মিল রয়েছে কি না—সে বিবেচনায় জেনেভা ক্যাম্প এলাকার গৃহকর্মীদের তথ্য যাচাই করা হয়।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হুমায়ুন রোডে আগের একটি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে থাকা একটি পুরোনো মোবাইল নম্বর তদন্তের গতিপথ পাল্টে দেয়।

কল ডেটা রেকর্ড বিশ্লেষণে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করতেন রাব্বি নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তী তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, রাব্বির স্ত্রীই পলাতক গৃহকর্মী আয়েশা। তাঁদের শারীরিক বর্ণনা বাদীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত একাধিক অভিযান শেষে অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামের দাদা-শ্বশুরবাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আয়েশার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি ল্যাপটপও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিনই আয়েশা দুই হাজার টাকা চুরি করে। চতুর্থ দিন সকালে টাকা চুরির বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে তার তর্ক হয়। লায়লা ফোনে স্বামীকে বিষয়টি জানাতে চেষ্টা করলে আয়েশা আগে থেকে লুকিয়ে রাখা সুইচগিয়ার দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লায়লা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। এ সময় মায়ের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে, আয়েশা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাফিসারও মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানায় ,আয়েশার আগেও চুরির অভ্যাস ছিল এবং সে তার নিজের বোনের বাড়ি থেকেও অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম ঢাকাবাসীর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ হতে যারা বাসায় গৃহকর্মী রাখেন তারা তাদের পরিচয়পত্র এবং পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করার প্রতি অনুরোধ করেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটের কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এক কল রেকর্ডেই সূত্র ধরে মা মেয়ের হত্যার চিত্র!

আপডেট সময় : ০৭:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রায় তিন দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম
আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এর আগে গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে তার স্বামী রাব্বির সঙ্গে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জানায়, কোনো ডিজিটাল ক্লু না পাওয়ায় তদন্তকারীরা ‘ম্যানুয়াল’ উপায়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সময় গত এক বছরের গৃহকর্মী জড়িত চুরির মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হয় এবং গলায় পোড়া দাগের মিল রয়েছে কি না—সে বিবেচনায় জেনেভা ক্যাম্প এলাকার গৃহকর্মীদের তথ্য যাচাই করা হয়।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হুমায়ুন রোডে আগের একটি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে থাকা একটি পুরোনো মোবাইল নম্বর তদন্তের গতিপথ পাল্টে দেয়।

কল ডেটা রেকর্ড বিশ্লেষণে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করতেন রাব্বি নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তী তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, রাব্বির স্ত্রীই পলাতক গৃহকর্মী আয়েশা। তাঁদের শারীরিক বর্ণনা বাদীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত একাধিক অভিযান শেষে অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামের দাদা-শ্বশুরবাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আয়েশার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি ল্যাপটপও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিনই আয়েশা দুই হাজার টাকা চুরি করে। চতুর্থ দিন সকালে টাকা চুরির বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে তার তর্ক হয়। লায়লা ফোনে স্বামীকে বিষয়টি জানাতে চেষ্টা করলে আয়েশা আগে থেকে লুকিয়ে রাখা সুইচগিয়ার দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লায়লা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। এ সময় মায়ের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে, আয়েশা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাফিসারও মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানায় ,আয়েশার আগেও চুরির অভ্যাস ছিল এবং সে তার নিজের বোনের বাড়ি থেকেও অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম ঢাকাবাসীর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ হতে যারা বাসায় গৃহকর্মী রাখেন তারা তাদের পরিচয়পত্র এবং পরিচয় নিশ্চিতকারী ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করার প্রতি অনুরোধ করেন।