১০:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত শহিদের লাশ হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদের (৩৭) লাশ আজ শনিবার হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিহত এই বাংলাদেশির লাশ হস্তান্তরের মাধ্যমে ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

​শনিবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে ভারতীয় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদুল ইসলামের লাশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও জীবননগর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

​লাশ হস্তান্তরের স্থান ছিল চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া চেকপোস্ট। এসময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ জীবননগর থানা-পুলিশের হাতে লাশ তুলে দেয়।

​লাশ হস্তান্তর ও পতাকা বৈঠকের সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ​৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান। ​জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হাসান।
​জীবননগর থানার পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) রিপন কুমার দাস।

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়ানের কর্মকর্তারা লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

​নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদ জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে। গত ২৯ নভেম্বর জীবননগরের গয়েশপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হন।

​শহিদুলের নিহতের কারণ নিয়ে স্থানীয় সূত্র এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

​১. স্থানীয় সূত্রের দাবি: মাদক আনতে গিয়েছিলেন শহিদ
​স্থানীয় একাধিক সূত্র ঘটনার কারণ হিসেবে অবৈধ কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার দিন গয়েশপুরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে সীমান্তে গিয়েছিলেন।

বিকেলে তাঁরা ফেরার সময় ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শহিদুল ইসলাম শহিদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

​২. পরিবারের দাবি: মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন শহিদ
​অন্যদিকে, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী সকালে কাজে গিয়েছিলেন এবং দেড়টা থেকে ২টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বিকেলে তিনি গরুর জন্য মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন।

নাসরিন আক্তার বলেন, “মাঠে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। মাগরিবের সময় শুনছি, আমার স্বামীকে গুলি করে বিএসএফ নিয়ে গেছে।”
​বর্তমানে নিহত শহিদুলের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হবে

 

Tag :
এখন আলোচনায়

শেরপুরে ১১ স্বপ্ন সারথী পেলেন ব্র্যাকের সেলাই মেশিন

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত শহিদের লাশ হস্তান্তর

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদের (৩৭) লাশ আজ শনিবার হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিহত এই বাংলাদেশির লাশ হস্তান্তরের মাধ্যমে ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

​শনিবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে ভারতীয় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদুল ইসলামের লাশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও জীবননগর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

​লাশ হস্তান্তরের স্থান ছিল চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া চেকপোস্ট। এসময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ জীবননগর থানা-পুলিশের হাতে লাশ তুলে দেয়।

​লাশ হস্তান্তর ও পতাকা বৈঠকের সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ​৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান। ​জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হাসান।
​জীবননগর থানার পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) রিপন কুমার দাস।

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়ানের কর্মকর্তারা লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

​নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদ জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে। গত ২৯ নভেম্বর জীবননগরের গয়েশপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হন।

​শহিদুলের নিহতের কারণ নিয়ে স্থানীয় সূত্র এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

​১. স্থানীয় সূত্রের দাবি: মাদক আনতে গিয়েছিলেন শহিদ
​স্থানীয় একাধিক সূত্র ঘটনার কারণ হিসেবে অবৈধ কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার দিন গয়েশপুরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে সীমান্তে গিয়েছিলেন।

বিকেলে তাঁরা ফেরার সময় ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শহিদুল ইসলাম শহিদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

​২. পরিবারের দাবি: মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন শহিদ
​অন্যদিকে, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী সকালে কাজে গিয়েছিলেন এবং দেড়টা থেকে ২টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বিকেলে তিনি গরুর জন্য মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন।

নাসরিন আক্তার বলেন, “মাঠে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। মাগরিবের সময় শুনছি, আমার স্বামীকে গুলি করে বিএসএফ নিয়ে গেছে।”
​বর্তমানে নিহত শহিদুলের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হবে