১১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের ‘ভুয়া ভাই’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, সহযোগীসহ জনতার হাতে আটক ২

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বড় ভাই পরিচয় দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

​আটককৃতরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলার ইবি (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) থানার হরিনারায়ণপুর গ্রামের হাজী ইসমাইলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ডাবলু এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের মুকুল চাঁন মণ্ডলের ছেলে কালু মণ্ডল।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ডাবলু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে অতি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

​ডাবলু ও তার সহযোগীরা সরকারি টেন্ডার, পুরাতন সরকারি ভবন ভাঙার কাজসহ বিভিন্ন লোভনীয় সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেন এবং এসব কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এই চক্রের সাথে কুষ্টিয়ার মিরপুরের তফসের উদ্দিন ও আলমডাঙ্গার হেলালের নামও উঠে এসেছে, যারা ডাবলুর সাথে সমন্বয় করে ক্লায়েন্ট বা ভুক্তভোগী সংগ্রহ করতেন।

​চুয়াডাঙ্গা শহরের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর ছেলে রাসেলের অভিযোগ, তাকে পুরাতন ভবন ভাঙার একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কাজ না পেয়ে এবং ডাবলুর কথাবার্তায় নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করে রাসেল প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাবলু বিভিন্ন স্থানে দাবি করতেন—ডিসি লুৎফুন নাহার যখন কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন থেকেই তার সাথে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদের পরিচয় কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি বিভিন্ন সুবিধা এনে দিতে পারবেন বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

​একই ধরনের প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যক্তি একজোট হয়ে ডাবলুর পরিচয় ও দাবির সত্যতা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা ডাবলু ও তার সহযোগী কালু মণ্ডলকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেন।

​এই প্রতারণার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে আমার কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তিনি আমার কেউ নন এবং তার সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথাবার্তাও হয়নি। আমার নাম বা সরকারি পদবী ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করলে তার দায় সম্পূর্ণ ওই ব্যক্তির।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে

Tag :
এখন আলোচনায়

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের ‘ভুয়া ভাই’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, সহযোগীসহ জনতার হাতে আটক ২

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বড় ভাই পরিচয় দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

​আটককৃতরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলার ইবি (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) থানার হরিনারায়ণপুর গ্রামের হাজী ইসমাইলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ডাবলু এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের মুকুল চাঁন মণ্ডলের ছেলে কালু মণ্ডল।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ডাবলু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে অতি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

​ডাবলু ও তার সহযোগীরা সরকারি টেন্ডার, পুরাতন সরকারি ভবন ভাঙার কাজসহ বিভিন্ন লোভনীয় সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেন এবং এসব কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এই চক্রের সাথে কুষ্টিয়ার মিরপুরের তফসের উদ্দিন ও আলমডাঙ্গার হেলালের নামও উঠে এসেছে, যারা ডাবলুর সাথে সমন্বয় করে ক্লায়েন্ট বা ভুক্তভোগী সংগ্রহ করতেন।

​চুয়াডাঙ্গা শহরের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর ছেলে রাসেলের অভিযোগ, তাকে পুরাতন ভবন ভাঙার একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কাজ না পেয়ে এবং ডাবলুর কথাবার্তায় নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করে রাসেল প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাবলু বিভিন্ন স্থানে দাবি করতেন—ডিসি লুৎফুন নাহার যখন কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন থেকেই তার সাথে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদের পরিচয় কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি বিভিন্ন সুবিধা এনে দিতে পারবেন বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন।

​একই ধরনের প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যক্তি একজোট হয়ে ডাবলুর পরিচয় ও দাবির সত্যতা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা ডাবলু ও তার সহযোগী কালু মণ্ডলকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেন।

​এই প্রতারণার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে আমার কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তিনি আমার কেউ নন এবং তার সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথাবার্তাও হয়নি। আমার নাম বা সরকারি পদবী ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করলে তার দায় সম্পূর্ণ ওই ব্যক্তির।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে