১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

লালমনিরহাটের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে র‌্যাবের অভিযানে কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে।

‎শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ১মিনিটে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাদী মোছাঃ রহিমা বেওয়া (৭০) এর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদী ও ভিকটিম এবং ধৃত আসামি সম্পর্কে জ্ঞাতি গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরে বাদীর পরিবার ও ধৃত আসামির পরিবারের সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে গত ২ জুন সকাল ৯টায় বাদীর ছেলে ভিকটিম মোঃ উজ্জল মিয়া (২৬) পার্শ্ববর্তী বাড়ি হতে নিজ বাড়ির গেটের সামনে আসা মাত্র ধৃত আসামি ও সহযোগী ৫/৭জন আসামিগণ পূর্ব বিরোধের জেরে হাতে রাম দা, ধারালো ছোরা, বটি, লাঠি সোটা নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ভিকটিমের বসতবাড়ির গেট খুলে অনাধিকার প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে ধৃত আসামির হাতে থাকা ধারালো ছোরা ও রামদা দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ীভাবে মারপিট করে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ভিকটিম উক্তরুপ আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে ধৃত আসামি ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ধৃত আসামি ও সহযোগী আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ভিকটিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ জুন রাত ১টায় মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৮ জুন ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৯৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ মূলে মামলার দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫।

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।

সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ২টা ৪০মিনিটে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানাধীন চর গোড়কমন্ডল সাকিস্থ মৃত আব্দুল হামিদের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ আলমগীর হোসেন ওরফে আনন্দ (৩২)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার তালুক দুলালী এলাকার মৃত ঈমান আলীর ছেলে।

এখানে উল্লেখ থাকে যে, অত্র মামলার এজাহারনামীয় ৫, ৬ এবং ৮নং আসামি যথাক্রমে সাহেদ আলী মুন্সির ছেলে মোঃ ফজলুল হক (৪২), মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ ছকিনা বেগম (৩৮), মৃত ইমান আলীর স্ত্রী মোছাঃ লাইলী বেগম (৫০) কে গত ১৩ জুন দুপুর ২টা ৪৫মিনিটে রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানাধীন মডার্ন মোড় এলাকা থেকে র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

Tag :
এখন আলোচনায়

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর

লালমনিরহাটের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে র‌্যাবের অভিযানে কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে।

‎শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ১মিনিটে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাদী মোছাঃ রহিমা বেওয়া (৭০) এর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, বাদী ও ভিকটিম এবং ধৃত আসামি সম্পর্কে জ্ঞাতি গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরে বাদীর পরিবার ও ধৃত আসামির পরিবারের সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে গত ২ জুন সকাল ৯টায় বাদীর ছেলে ভিকটিম মোঃ উজ্জল মিয়া (২৬) পার্শ্ববর্তী বাড়ি হতে নিজ বাড়ির গেটের সামনে আসা মাত্র ধৃত আসামি ও সহযোগী ৫/৭জন আসামিগণ পূর্ব বিরোধের জেরে হাতে রাম দা, ধারালো ছোরা, বটি, লাঠি সোটা নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ভিকটিমের বসতবাড়ির গেট খুলে অনাধিকার প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে ধৃত আসামির হাতে থাকা ধারালো ছোরা ও রামদা দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ীভাবে মারপিট করে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ভিকটিম উক্তরুপ আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে ধৃত আসামি ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ধৃত আসামি ও সহযোগী আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ভিকটিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ জুন রাত ১টায় মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৮ জুন ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৯৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ মূলে মামলার দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫।

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।

সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ২টা ৪০মিনিটে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানাধীন চর গোড়কমন্ডল সাকিস্থ মৃত আব্দুল হামিদের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ আলমগীর হোসেন ওরফে আনন্দ (৩২)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার তালুক দুলালী এলাকার মৃত ঈমান আলীর ছেলে।

এখানে উল্লেখ থাকে যে, অত্র মামলার এজাহারনামীয় ৫, ৬ এবং ৮নং আসামি যথাক্রমে সাহেদ আলী মুন্সির ছেলে মোঃ ফজলুল হক (৪২), মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ ছকিনা বেগম (৩৮), মৃত ইমান আলীর স্ত্রী মোছাঃ লাইলী বেগম (৫০) কে গত ১৩ জুন দুপুর ২টা ৪৫মিনিটে রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানাধীন মডার্ন মোড় এলাকা থেকে র‍্যাব-১৩ এর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র‍্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।