০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ম গ্রেডসহ ৫ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করলো ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি

 

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি (বিইউপিএওএস), চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

আজ ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজ বংশীর কাছে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ-এর প্রধান দাবিটি ছিল এই স্মারকলিপির মূল বিষয়। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বভার বিবেচনা করে এই পদটিকে দ্রুত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা আবশ্যক।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৫টি দাবি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার জন্য অপরিহার্য বলে সমিতি মনে করে। দাবিগুলো হলো:

১. ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ: ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে অবিলম্বে সরকারি স্কেলের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে।

২. সময়োপযোগী নিয়োগবিধি ও পদোন্নতি: ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের জন্য একটি সময়োপযোগী ও আধুনিক নিয়োগবিধিমালা প্রণয়ন করা এবং এর ভিত্তিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৩. শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় হতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের শতভাগ বেতন-ভাতা নিশ্চিত ও সরাসরি প্রদান করতে হবে।

৪. পেনশন সুবিধা নিশ্চিতকরণ: অবসরকালীন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাগণকে শতভাগ আনুতোষিক (গ্রাচ্যুইটি) প্রদান অথবা তাদের পারিবারিক পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে এই সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

৫. স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সকল স্তরের কর্মীদের তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্য অবিলম্বে একটি স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি এবং জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

তারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সার্বিক) নিকট স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উল্লেখ করেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের সকল প্রকার সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তাদের পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো হতাশাজনক হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজ বংশী স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেন যে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুততার সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর প্রেরণ করা হবে।

সমিতি আশা প্রকাশ করে যে, সরকার তাদের দাবিগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

১০ম গ্রেডসহ ৫ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করলো ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি (বিইউপিএওএস), চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

আজ ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজ বংশীর কাছে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ-এর প্রধান দাবিটি ছিল এই স্মারকলিপির মূল বিষয়। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বভার বিবেচনা করে এই পদটিকে দ্রুত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা আবশ্যক।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৫টি দাবি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার জন্য অপরিহার্য বলে সমিতি মনে করে। দাবিগুলো হলো:

১. ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ: ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণকে অবিলম্বে সরকারি স্কেলের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে।

২. সময়োপযোগী নিয়োগবিধি ও পদোন্নতি: ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের জন্য একটি সময়োপযোগী ও আধুনিক নিয়োগবিধিমালা প্রণয়ন করা এবং এর ভিত্তিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৩. শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় হতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের শতভাগ বেতন-ভাতা নিশ্চিত ও সরাসরি প্রদান করতে হবে।

৪. পেনশন সুবিধা নিশ্চিতকরণ: অবসরকালীন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাগণকে শতভাগ আনুতোষিক (গ্রাচ্যুইটি) প্রদান অথবা তাদের পারিবারিক পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে এই সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

৫. স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সকল স্তরের কর্মীদের তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্য অবিলম্বে একটি স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি এবং জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

তারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সার্বিক) নিকট স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উল্লেখ করেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের সকল প্রকার সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তাদের পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো হতাশাজনক হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজ বংশী স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেন যে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুততার সাথে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর প্রেরণ করা হবে।

সমিতি আশা প্রকাশ করে যে, সরকার তাদের দাবিগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করবে।