
স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ, নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পুষ্টি-সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলা-২০২৫’। মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং কৃষিতে সার-কীটনাশকের সঠিক ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং বর্তমানে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপদ ও টেকসই কৃষির মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি দেশের খাদ্য পরিস্থিতি এবং পুষ্টি ঘাটতির দিকটি আলোকপাত করেন।
মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “আমরা খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করলেও, পুষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের দেশে এখনও ঘাটতি বিদ্যমান। এই ঘাটতি পূরণে কৃষকদের অবশ্যই সঠিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিরাপদ চাষাবাদে আরও বেশি সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।”
তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব কৃষির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর ওপর জোর দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন সহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদকরা তাদের স্টল স্থাপন করেছে। এসব স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, জৈব সার, নিরাপদ সবজি ও ফলমূল, পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য এবং স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বিশেষ করে, পরিবেশবান্ধব ও জৈব চাষ পদ্ধতির প্রদর্শনীগুলো কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষকদেরকে পুষ্টি-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। আয়োজকরা আশা করছেন, এই মেলা চুয়াডাঙ্গার কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
নাঈম উদ্দীন/আমাদের চুয়াডাঙ্গা
স্টাফ রিপোর্টার 













