১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসপাতালে এপেন্ডিসাইড অপারেশন করে

হাত পা পঙ্গু হয়ে বিছানাগত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুর, বাঁচার আকুতি

  • রানা আহম্মেদ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৬০ Time View

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুর রহমান (১২)। কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া চোরপাড়া গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র পাখিভ্যান চালক আলমগীরের ছেলে হাসিবুর। গত চার মাস আগে সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসপাতালে এপেন্ডিসাইডের অপারেশন করে। এর থেকে হাসিবুর আর সুস্থ হতে পারে নি। বর্তমানে হাসিবুরের শরীরের একপাশ অবাস হয়ে পা হাত পড়ে গেছে। ছেলেকে সুস্থ করতে বাবা আলমগীরের প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হলেও ছেলের সুস্থতা ফেরাতে পারে নি।

এ বিষয়ে বিআরএম হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে পাখিভ্যান চালক আলমগীর হোসেন বিষয়টি জানালোও কোন পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অসহায় পিতা আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদকে জানিয়েছে, গত ৪ মাস আগে আমার ছেলে আমাকে বলেন পেটে ব্যথার কথা, প্রায়ই বলে পেটে ব্যথার কথা, তবে আমি অসহায় হতদরিদ্র মানুষ পাখিভ্যান চালিয়ে খাই, ছেলে নিয়ে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য সরোজগঞ্জ বাজারের বিআরএম হাসাপাতালে। তবে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ হুমায়ন কবির আমাকে বলেন ছেলেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরে হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবির আমাকে বলেন ছেলের এপেন্ডিসাইড হয়েছে; জরুরিভাবে অপারেশন করতে হবে, তা না হলে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ছেলে এপেন্ডিসাইড অপারেশনের জন্য কত টাকা খরচ হবে, তিনি আমাকে বলেছিল ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। আমি তাকে বলেছিলাম ভাই, আমি গরিব মানুষ পাখিভ্যান চালিয়ে খাই, তবে কিছু টাকা কম নেন, অনেক জোরাজোরির পরে ১ হাজার টাকা কম দিয়ে, ৯ হাজার টাকায় অপারেশনের কন্টাক করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন- সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসাপাতালে আমার ছেলে অপারেশন করার কথা ছিল ডাক্তার হাসানুজ্জামান স্যারকে দিয়ে, আমি হাসানুজ্জামান স্যারকে চিনি, তবে অপারেশন সময়ে হাসানুজ্জামান স্যার ছিল না। পরে দেখছি ওটিরুমে অপারেশন করেন ডাক্তার হুমায়ুন কবির। সময়টা ছিল বিকাল সাড়ে তিনটা। আমি হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবিরকে বলেছিলাম ভাই আমি ছেলের অপারেশন করব হাসানুজ্জামান স্যারকে দিয়ে; তবে আপনি হুমায়ুনকে দিয়ে অপারেশন করলেন কেন। পরে আমাকে বলে সমস্যা নাই, ঠিক হয়ে যাবে ভালো ডাক্তার। এদিকে এক সপ্তাহ পর আমার ছেলে হাবিবুরের অবস্থা বেগতিক খারাপের দিকে হয়ে যাচ্ছিল, দেখি তার ডানপাশ অবশ হয়ে পড়ে যাচ্ছে; চলাফেরা করতে পারছেন না। আমি গরিব মানুষ কি করবো, পরবর্তী আবার আমি হুমায়ুন কবিরকে দেখিয়েছিলাম, তিনি বলেছিল সমস্যা নাই ওষুধ দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে। দুই সপ্তাহ পার হলেও অবস্থা আরো খারাপের দিকে হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবিরকে আবারও জানিয়েছিলাম তিনি বলেছিল আস্তে আস্তে সেরে যাবে।

তিনি আরও বলেন- কিন্তু ক্রমেই ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, না পেরে আমি চুয়াডাঙ্গার ডাক্তার হাকিম স্যারকে দেখায়। তিনি বলেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, আমি বলি স্যার আমি পাখি ভ্যান চালিয়ে খাই গরিব মানুষ। তিনি বলেন সামান্য পরীক্ষা করে রিপোর্টগুলো দেখতে হবে। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো করে হাকিম স্যারকে দেখালে তিনি বলেন কোন ডাক্তারের কাছে অপারেশন করা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম হুমায়ুন কবিরের কাছে। হাকিম স্যার পরবর্তী রিপোর্টগুলো দেখে আমাকে বলেন ছেলের পায়ের শিরার সমস্যা হয়ে গেছে পা ফুলে গেছে তো। এর পর দীর্ঘ দু’মাস হাকিম ডাক্তারকে দেখানোর পরে ছেলের শরীরের অবস্থা ভালো না হলে, ডাক্তার হাকিম রাজশাহীতে রেফার করেন।

তিনি আরও বলেন- বিআরএম হাসপাতালের মালিকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, তিনি বলেছে হুমায়ুন কবির স্যার রাজশাহীতে আছে আপনি ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে চলে যান ওখানে ভালো ডাক্তার আছে সেখানে স্যারের সাথে নিয়ে, ভালো ডাক্তার দেখান। আমি ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে গিয়েছিলাম হুমায়ুন কবির ডাক্তারের কাছে যে ডাক্তার অপারেশন করেছিল। তিনি আবার দেখার পরে রাজশাহী মডেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে হুমায়ুন কবির ডাক্তার রিসিভ করে আমার ছেলেকে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী মডেল হাসপাতালের ডাক্তার মনজুরুল হককে দেখান, এরপরেই মনজুরুল ডাক্তার বলেন ছোট বাচ্চার অবস্থা তো খারাপ, তো রোগীর অভিভাবককে। তবে হাসপাতাল থেকে হুমায়ুন কবির ডাক্তার আমাকে রুম থেকে বাইরে বের করে দেয়, বলে তুমি পরে আসো আমি মনজুরুল স্যারের সাথে কথা বলেনিই। ডাক্তার মনজুরুল স্যার ও হুমায়ুন কথা বলাবলির পর আমাকে ১০-১২টা রিপোর্ট করাতে বললো, তারমধ্য হুমায়ুন কবির ডাক্তার চারটা রিপোর্ট করলো, বাদবাকি ৬ টা রিপোর্ট আমার নিজের খরচে করলাম।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন- মনজুরুল স্যারের সাথে আমাকে একা ঘরে কথা বলতে দিছিলো না হুমায়ুন কবির, না পেরে পরবর্তীতে আমি গোপনে রাজশাহী মডেল হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চলে গেছিলাম। যেখানে ডাঃ মনজুরুল হক স্যার যে চেম্বারে বসে, আমি মঞ্জুরুল স্যারকে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটির পরে আমি বলেছিলাম স্যার আমার ছেলের শরীরের কি অবস্থা, তিনি আমার গোপনে বলেন তোমার ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ এবং পুরা শরীরে ইনফেকশন হয়ে গেছে। এখন ভালো ডাক্তার এবং ভালো ট্রিটমেন্ট করতে হলে অনেক টাকা খরচ হবে। আমি স্যারকে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছিলাম আর বলছিলাম স্যার আমি গরিব মানুষ পাখি ভ্যান চালিয়ে খাই, আমারতো অত টাকা নাই, তিনি আমাকে বলেন রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আমি রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম ছেলেকে ট্রিটমেন্ট চলতে থাকে এক সপ্তাহ ধরে, এরপর আমি হুমায়ুন কবিরের চেম্বারে গিয়েছিলাম আমি ডাক্তার সাহেব কে বলেছিলাম স্যার আমার ছেলের জন্য কোন রিপোর্ট আপনি দিচ্ছেন না, ভালোভাবে ট্রিটমেন্টও করাচ্ছেন না। পরবর্তীতে হুমায়ুন কবির স্যার আমাকে বলেন আপনাকে আমি চিনি না, আপনার সাথে কি আমার কোন কন্টাক্ট হয়েছিল। আপনার ছেলের বিষয়ে কন্ট্যাক হয়েছিল বিআরএম হাসপাতালে মালিক হুমায়ুন কবিরের সাথে। সে তো আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়েছিল। আপনার ছেলের পিছনে কি আমি লাখ লাখ টাকা খরচ করব। এই কথার পরে আমি হাসপাতালে মালিক হুমায়ুন কবিরকে মোবাইলে জানিয়েছিলাম। পরে আমি রাজশাহী থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি ছেলেকে। এই অসহায় গরিব মানুষ আমি ছেলেকে কিভাবে বাঁচাবো সেই সামর্থন টাকাপয়সা তো আমার তো আর নাই।

তবে এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা সকল প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি নজরদারীর প্রয়োজন মনে করছেন অসহায় গরীব পাখি ভ্যান চালক আলমগীর হোসেন। ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি।

Tag :
এখন আলোচনায়

সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসপাতালে এপেন্ডিসাইড অপারেশন করে

হাত পা পঙ্গু হয়ে বিছানাগত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুর, বাঁচার আকুতি

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুর রহমান (১২)। কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া চোরপাড়া গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র পাখিভ্যান চালক আলমগীরের ছেলে হাসিবুর। গত চার মাস আগে সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসপাতালে এপেন্ডিসাইডের অপারেশন করে। এর থেকে হাসিবুর আর সুস্থ হতে পারে নি। বর্তমানে হাসিবুরের শরীরের একপাশ অবাস হয়ে পা হাত পড়ে গেছে। ছেলেকে সুস্থ করতে বাবা আলমগীরের প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হলেও ছেলের সুস্থতা ফেরাতে পারে নি।

এ বিষয়ে বিআরএম হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে পাখিভ্যান চালক আলমগীর হোসেন বিষয়টি জানালোও কোন পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অসহায় পিতা আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদকে জানিয়েছে, গত ৪ মাস আগে আমার ছেলে আমাকে বলেন পেটে ব্যথার কথা, প্রায়ই বলে পেটে ব্যথার কথা, তবে আমি অসহায় হতদরিদ্র মানুষ পাখিভ্যান চালিয়ে খাই, ছেলে নিয়ে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য সরোজগঞ্জ বাজারের বিআরএম হাসাপাতালে। তবে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ হুমায়ন কবির আমাকে বলেন ছেলেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরে হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবির আমাকে বলেন ছেলের এপেন্ডিসাইড হয়েছে; জরুরিভাবে অপারেশন করতে হবে, তা না হলে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ছেলে এপেন্ডিসাইড অপারেশনের জন্য কত টাকা খরচ হবে, তিনি আমাকে বলেছিল ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। আমি তাকে বলেছিলাম ভাই, আমি গরিব মানুষ পাখিভ্যান চালিয়ে খাই, তবে কিছু টাকা কম নেন, অনেক জোরাজোরির পরে ১ হাজার টাকা কম দিয়ে, ৯ হাজার টাকায় অপারেশনের কন্টাক করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন- সরোজগঞ্জ বিআরএম হাসাপাতালে আমার ছেলে অপারেশন করার কথা ছিল ডাক্তার হাসানুজ্জামান স্যারকে দিয়ে, আমি হাসানুজ্জামান স্যারকে চিনি, তবে অপারেশন সময়ে হাসানুজ্জামান স্যার ছিল না। পরে দেখছি ওটিরুমে অপারেশন করেন ডাক্তার হুমায়ুন কবির। সময়টা ছিল বিকাল সাড়ে তিনটা। আমি হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবিরকে বলেছিলাম ভাই আমি ছেলের অপারেশন করব হাসানুজ্জামান স্যারকে দিয়ে; তবে আপনি হুমায়ুনকে দিয়ে অপারেশন করলেন কেন। পরে আমাকে বলে সমস্যা নাই, ঠিক হয়ে যাবে ভালো ডাক্তার। এদিকে এক সপ্তাহ পর আমার ছেলে হাবিবুরের অবস্থা বেগতিক খারাপের দিকে হয়ে যাচ্ছিল, দেখি তার ডানপাশ অবশ হয়ে পড়ে যাচ্ছে; চলাফেরা করতে পারছেন না। আমি গরিব মানুষ কি করবো, পরবর্তী আবার আমি হুমায়ুন কবিরকে দেখিয়েছিলাম, তিনি বলেছিল সমস্যা নাই ওষুধ দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে। দুই সপ্তাহ পার হলেও অবস্থা আরো খারাপের দিকে হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের মালিক হুমায়ুন কবিরকে আবারও জানিয়েছিলাম তিনি বলেছিল আস্তে আস্তে সেরে যাবে।

তিনি আরও বলেন- কিন্তু ক্রমেই ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, না পেরে আমি চুয়াডাঙ্গার ডাক্তার হাকিম স্যারকে দেখায়। তিনি বলেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, আমি বলি স্যার আমি পাখি ভ্যান চালিয়ে খাই গরিব মানুষ। তিনি বলেন সামান্য পরীক্ষা করে রিপোর্টগুলো দেখতে হবে। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো করে হাকিম স্যারকে দেখালে তিনি বলেন কোন ডাক্তারের কাছে অপারেশন করা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম হুমায়ুন কবিরের কাছে। হাকিম স্যার পরবর্তী রিপোর্টগুলো দেখে আমাকে বলেন ছেলের পায়ের শিরার সমস্যা হয়ে গেছে পা ফুলে গেছে তো। এর পর দীর্ঘ দু’মাস হাকিম ডাক্তারকে দেখানোর পরে ছেলের শরীরের অবস্থা ভালো না হলে, ডাক্তার হাকিম রাজশাহীতে রেফার করেন।

তিনি আরও বলেন- বিআরএম হাসপাতালের মালিকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, তিনি বলেছে হুমায়ুন কবির স্যার রাজশাহীতে আছে আপনি ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে চলে যান ওখানে ভালো ডাক্তার আছে সেখানে স্যারের সাথে নিয়ে, ভালো ডাক্তার দেখান। আমি ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে গিয়েছিলাম হুমায়ুন কবির ডাক্তারের কাছে যে ডাক্তার অপারেশন করেছিল। তিনি আবার দেখার পরে রাজশাহী মডেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে হুমায়ুন কবির ডাক্তার রিসিভ করে আমার ছেলেকে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী মডেল হাসপাতালের ডাক্তার মনজুরুল হককে দেখান, এরপরেই মনজুরুল ডাক্তার বলেন ছোট বাচ্চার অবস্থা তো খারাপ, তো রোগীর অভিভাবককে। তবে হাসপাতাল থেকে হুমায়ুন কবির ডাক্তার আমাকে রুম থেকে বাইরে বের করে দেয়, বলে তুমি পরে আসো আমি মনজুরুল স্যারের সাথে কথা বলেনিই। ডাক্তার মনজুরুল স্যার ও হুমায়ুন কথা বলাবলির পর আমাকে ১০-১২টা রিপোর্ট করাতে বললো, তারমধ্য হুমায়ুন কবির ডাক্তার চারটা রিপোর্ট করলো, বাদবাকি ৬ টা রিপোর্ট আমার নিজের খরচে করলাম।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন- মনজুরুল স্যারের সাথে আমাকে একা ঘরে কথা বলতে দিছিলো না হুমায়ুন কবির, না পেরে পরবর্তীতে আমি গোপনে রাজশাহী মডেল হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাজশাহী পপুলার হাসপাতালে চলে গেছিলাম। যেখানে ডাঃ মনজুরুল হক স্যার যে চেম্বারে বসে, আমি মঞ্জুরুল স্যারকে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটির পরে আমি বলেছিলাম স্যার আমার ছেলের শরীরের কি অবস্থা, তিনি আমার গোপনে বলেন তোমার ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ এবং পুরা শরীরে ইনফেকশন হয়ে গেছে। এখন ভালো ডাক্তার এবং ভালো ট্রিটমেন্ট করতে হলে অনেক টাকা খরচ হবে। আমি স্যারকে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছিলাম আর বলছিলাম স্যার আমি গরিব মানুষ পাখি ভ্যান চালিয়ে খাই, আমারতো অত টাকা নাই, তিনি আমাকে বলেন রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আমি রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম ছেলেকে ট্রিটমেন্ট চলতে থাকে এক সপ্তাহ ধরে, এরপর আমি হুমায়ুন কবিরের চেম্বারে গিয়েছিলাম আমি ডাক্তার সাহেব কে বলেছিলাম স্যার আমার ছেলের জন্য কোন রিপোর্ট আপনি দিচ্ছেন না, ভালোভাবে ট্রিটমেন্টও করাচ্ছেন না। পরবর্তীতে হুমায়ুন কবির স্যার আমাকে বলেন আপনাকে আমি চিনি না, আপনার সাথে কি আমার কোন কন্টাক্ট হয়েছিল। আপনার ছেলের বিষয়ে কন্ট্যাক হয়েছিল বিআরএম হাসপাতালে মালিক হুমায়ুন কবিরের সাথে। সে তো আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়েছিল। আপনার ছেলের পিছনে কি আমি লাখ লাখ টাকা খরচ করব। এই কথার পরে আমি হাসপাতালে মালিক হুমায়ুন কবিরকে মোবাইলে জানিয়েছিলাম। পরে আমি রাজশাহী থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি ছেলেকে। এই অসহায় গরিব মানুষ আমি ছেলেকে কিভাবে বাঁচাবো সেই সামর্থন টাকাপয়সা তো আমার তো আর নাই।

তবে এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা সকল প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি নজরদারীর প্রয়োজন মনে করছেন অসহায় গরীব পাখি ভ্যান চালক আলমগীর হোসেন। ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি।