১২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দু’টি এজাহার দাখিল

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আতঙ্ক কাটেনি দর্শনাবাসির। গত শুক্রবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শনিবার দর্শনা থানায় পৃথক ২টি এজাহার দাখিল হয়েছে। গতরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এজাহার ২টি গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ তিতুমীর নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, মামলা ২টিতে ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের রাতের ঘটনায় গতকালও দর্শনাতে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল এবং বিছিন্নভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্নস্থানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাটছেনা।

উল্লেখ্য যে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দর্শনায় শুক্রবার বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সুত্রপাত ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর অভ্যন্তরে ছাত্রদল, যুবদল সম্মিলিত হয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টার প্রতিবাদে এক মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে আনন্দবাজার সংলগ্ন স্থানে ছাত্রদল ও যুবদলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হাফিজুল ইসলাম হাফিজ সংগঠনের একটি মোটরসাইকেল মিছিল উচ্চ শব্দে উক্ত স্থান দিয়ে যাওয়ায় আলোচনা সভায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলের উচ্চ শব্দ করতে নিষেধ করায় দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রুপ নিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও দর্শনার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা সামাল দিতে দর্শনার বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে নেতারা সমাধানের জন্য দর্শনা রেলবাজার ফুড গোডাউনের সামনে একত্রিত হলে সেখানেও দলীয় নেতাদের কমান্ড না মেনে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদল ও যুবদল পৃথক হয়ে সংঘর্ষটি রেলবাজার শাহারিয়ার মুক্ত মঞ্চের দিকে অগ্রসর হলে ভয়াবহ রুপ নেয়। এ সময় দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট ও সমন্বয়ক নাহারুল মাস্টারের নেতাকর্মী পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে এই সংঘর্ষ দর্শনা থানা এরিয়া তথা চটকাতলা ও দর্শনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন স্থানে ব্যাপক রূপ নেয়। এ সময় চটকাতলার যুবদল নেতা আরিফের বাড়ি ভাঙচুর, চটকাতলা যুব সংঘসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর হয়। এ সময় পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা থেকে অতিরিক্ত পুলিশের একটি দল দর্শনায় পৌঁছায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল দর্শনায় পৌঁছানোর খবর পেয়ে সংঘর্ষকারীরা সটকে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষের অস্ত্রের মহড়ায় সাধারন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যে যেখানে ছিল সেখান থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। উত্তেজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে সাইরেন বাজাতে থাকলে আরো আতঙ্ক বেড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের অস্ত্র মহড়া দেখে দর্শনাবাসী চরম আতঙ্কে ভুগছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দোকানপাট ও বাড়ীঘর ভাঙচুরসহ প্রায় ১০ জন রক্তাক্ত জখম হয়। এরা হলেন- দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট (৪৮), যুবদল নেতা শিপন (৪২), রকিবুল হাসান ব্রাইট (৩৭), ছাত্রদল নেতা আরিফ(২৭), মামুন (২৫), মিতু (২৩) সহ প্রায় ১০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় ৫ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রাত ৮টার দিকে রেলবাজার শাহরিয়ার মুক্তমঞ্চের সামনে যখন দুপক্ষের ভিতর তর্কবিতর্ক চলছিল খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। দর্শনা পৌর বিএনপি’র নিজেদের মধ্যে কোন মারামারি ঘটনা প্রত্যাশা করিনা। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।দর্শনা পৌর ও যুবদলের সদস্য সচিব জালাল উদ্দিন বলেন, আওয়ামীলীগের পূর্ণবাসনের করে ছাত্রদল যুবদলের উপর হামলা চলানোর ঘটনা নিন্দনীয়। নেতা কর্মীদের রক্তাক্ত করে বাড়ী ঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

দর্শনা পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত রহমান বলেন, কেরুর শ্রমিক রাজনীতি ঘিরে কিছু সুবিধাবাদী বিএনপি’র ছত্রছায়ায় দর্শনায় প্রকাশ্যে ফাসিস্ট ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ রাজনীতি শুরু করেছে। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ এভাবে আমাদের উপরে হামলা এবং বাড়ীঘর ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত হবে এটা আমরা কখনো চাই না।

দর্শনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শনিবার পৌরসভার কলেজপাড়ার আবেদ আলীর পুত্র সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টারকে ১নং, সামাউল হোসেনকে নং এবং সোহেব হোসেনকে ৩নংসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও দেড় থেকে ২ শতাধিক ব্যক্তি অজ্ঞাত নামীয় আসামী করে একটি এবং পৌরসভার রামনগর গ্রামের মহাসিন আলীর পুত্র মনির হোসেন (৩০) বাদী হয়ে বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টারকে ১নং, সামাউল হোসেনকে ২নং এবং সোহেব হোসেনকে ৩নংসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও এক থেকে দেড় শতাধিক ব্যক্তি অজ্ঞাত নামীয় আসামী করে পৃথক দুটি এজাহার দাখিল করেছে। মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধী যেই হোক ছাড়া পাবেনা।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাংলা পরীক্ষা স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দু’টি এজাহার দাখিল

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আতঙ্ক কাটেনি দর্শনাবাসির। গত শুক্রবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শনিবার দর্শনা থানায় পৃথক ২টি এজাহার দাখিল হয়েছে। গতরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এজাহার ২টি গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ তিতুমীর নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, মামলা ২টিতে ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের রাতের ঘটনায় গতকালও দর্শনাতে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল এবং বিছিন্নভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্নস্থানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাটছেনা।

উল্লেখ্য যে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দর্শনায় শুক্রবার বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সুত্রপাত ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর অভ্যন্তরে ছাত্রদল, যুবদল সম্মিলিত হয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টার প্রতিবাদে এক মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে আনন্দবাজার সংলগ্ন স্থানে ছাত্রদল ও যুবদলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হাফিজুল ইসলাম হাফিজ সংগঠনের একটি মোটরসাইকেল মিছিল উচ্চ শব্দে উক্ত স্থান দিয়ে যাওয়ায় আলোচনা সভায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলের উচ্চ শব্দ করতে নিষেধ করায় দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রুপ নিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ও দর্শনার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা সামাল দিতে দর্শনার বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে নেতারা সমাধানের জন্য দর্শনা রেলবাজার ফুড গোডাউনের সামনে একত্রিত হলে সেখানেও দলীয় নেতাদের কমান্ড না মেনে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদল ও যুবদল পৃথক হয়ে সংঘর্ষটি রেলবাজার শাহারিয়ার মুক্ত মঞ্চের দিকে অগ্রসর হলে ভয়াবহ রুপ নেয়। এ সময় দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট ও সমন্বয়ক নাহারুল মাস্টারের নেতাকর্মী পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে এই সংঘর্ষ দর্শনা থানা এরিয়া তথা চটকাতলা ও দর্শনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন স্থানে ব্যাপক রূপ নেয়। এ সময় চটকাতলার যুবদল নেতা আরিফের বাড়ি ভাঙচুর, চটকাতলা যুব সংঘসহ বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর হয়। এ সময় পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা থেকে অতিরিক্ত পুলিশের একটি দল দর্শনায় পৌঁছায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল দর্শনায় পৌঁছানোর খবর পেয়ে সংঘর্ষকারীরা সটকে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষের অস্ত্রের মহড়ায় সাধারন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যে যেখানে ছিল সেখান থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। উত্তেজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে সাইরেন বাজাতে থাকলে আরো আতঙ্ক বেড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের অস্ত্র মহড়া দেখে দর্শনাবাসী চরম আতঙ্কে ভুগছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দোকানপাট ও বাড়ীঘর ভাঙচুরসহ প্রায় ১০ জন রক্তাক্ত জখম হয়। এরা হলেন- দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট (৪৮), যুবদল নেতা শিপন (৪২), রকিবুল হাসান ব্রাইট (৩৭), ছাত্রদল নেতা আরিফ(২৭), মামুন (২৫), মিতু (২৩) সহ প্রায় ১০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় ৫ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, রাত ৮টার দিকে রেলবাজার শাহরিয়ার মুক্তমঞ্চের সামনে যখন দুপক্ষের ভিতর তর্কবিতর্ক চলছিল খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। দর্শনা পৌর বিএনপি’র নিজেদের মধ্যে কোন মারামারি ঘটনা প্রত্যাশা করিনা। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।দর্শনা পৌর ও যুবদলের সদস্য সচিব জালাল উদ্দিন বলেন, আওয়ামীলীগের পূর্ণবাসনের করে ছাত্রদল যুবদলের উপর হামলা চলানোর ঘটনা নিন্দনীয়। নেতা কর্মীদের রক্তাক্ত করে বাড়ী ঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

দর্শনা পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত রহমান বলেন, কেরুর শ্রমিক রাজনীতি ঘিরে কিছু সুবিধাবাদী বিএনপি’র ছত্রছায়ায় দর্শনায় প্রকাশ্যে ফাসিস্ট ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ রাজনীতি শুরু করেছে। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ এভাবে আমাদের উপরে হামলা এবং বাড়ীঘর ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত হবে এটা আমরা কখনো চাই না।

দর্শনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শনিবার পৌরসভার কলেজপাড়ার আবেদ আলীর পুত্র সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টারকে ১নং, সামাউল হোসেনকে নং এবং সোহেব হোসেনকে ৩নংসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও দেড় থেকে ২ শতাধিক ব্যক্তি অজ্ঞাত নামীয় আসামী করে একটি এবং পৌরসভার রামনগর গ্রামের মহাসিন আলীর পুত্র মনির হোসেন (৩০) বাদী হয়ে বিএনপির সমন্বয়ক নাহারুল ইসলাম মাস্টারকে ১নং, সামাউল হোসেনকে ২নং এবং সোহেব হোসেনকে ৩নংসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও এক থেকে দেড় শতাধিক ব্যক্তি অজ্ঞাত নামীয় আসামী করে পৃথক দুটি এজাহার দাখিল করেছে। মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধী যেই হোক ছাড়া পাবেনা।