০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
একনেকে ৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে এখনো বাড়তি রয়েছে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৫৯ Time View
  • বাংলাদেশে ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই

  • ২০১০ সাল থেকে কোন বছরেই মার্চের আগে সব বই যায়নি

  • ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন


মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেটা এখনো বাড়তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মহামুদ। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি সবাই বলছে কিছুটা কমেছে, কিন্তু এটাকে কম বলে না। মূল্যাস্ফীতি এখনও বাড়তিই আছে। এর ফলে দিনমজুরদের উপর চাপ পড়ছে। মধ্যবিত্তরাও চাপে আছে।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ব্রিফিং এ তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সন্মেলন কক্ষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। গত সোমবার ডিসেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেখানে দেখা যায়, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়ায়। নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। যা নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, করোনা ও গণঅভ্যুত্থানের কারণে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি একটি ক্ষতি হয়েছে। এটা জনমিতির সুবিধার ক্ষেত্রে। জনসংখ্যা বয়স কাঠামোর মাঝামাঝি সময় চলছে। ১০ বছর পর জনসংখ্যার এই বয়সটা আর থাকবে না। কারন তাদের সবারই বয়স বেড়ে যাবে। তখন চিকিৎসমা খরচ অরেব বাড়বে। তবে সুশাসিত গণতান্ত্রিক শাসনে যদি উত্তরণ হতে পারি তাহলে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব নয়। এজন্য অন্তবর্তী সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত এটাই। আমাদেও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ভালো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভতি রচনা করা।
তিনি বলেন, রফতানি গতি ফিরে এসেছে। রেমিট্যান্স আগের থেকে বাড়ছে। এটা আশার কথা। মূল্যস্ফীতি সবাই বলছে কিছুটা কমেছে, কিন্তু এটাকে কম বলে না। মূল্যাস্ফীতি এখনও বাড়তিই আছে। এর ফলে দিনমজুরদের উপর চাপ পড়ছে। মধ্যবিত্তরাও চাপে আছে। উপদেষ্টা বলেন, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন অন্তর্বতী সরকারের নেয়া প্রকল্পে আসায় এডিপি বাস্তবায়নেও গতি আসবে। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের পানি ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র তৈরি করা দরকার।
উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মহামুদ বলেছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলীর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হবে। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ এবং বাড়ীসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করা হবে। আমি এসব মৌলিক কাজ করছি সেখানে মহার্ঘভাতার বিষয়টি মাথায় রাখছি না। এছাড়া ইতোমধ্যেই ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি দিয়ে শান্ত করেছি। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
২০১০ সাল থেকে কোন বছরেই মার্চের আগে বই যায়নি। কোন কোন বছর বই গিয়েছিল জুন-জুলাইয়ে। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস বিতর্কিত হয়েছে, সেটি নিয়ে কোন সম্পাদকীয়, উপ সম্পাদকীয় ছাপা হয়নি। অথচ রংপুরের আবু সাঈদের মৃত্যুর তারিখ ভুল হওয়া নিয়ে ব্যাপক নিউজ হয়েছে। আমরা বলোছি ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। সেগুলো সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা একটা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা তৈরি করছি। বিশেষ করে জণবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপাত্ত দরকার। তবুও ডেল্টা প্ল্যান তার জায়গায় থাকবে। ওটা শতবছরের পরিকল্পনা। কিন্তু কোন বিশেষজ্ঞই বলতে পারবে না শত বছরে বাংলাদেশের কি অবস্থা হবে। তাই মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা দরকার।
এদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪ হাজার ২৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৩২ কোটি ০১ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ২০৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪০৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো- অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম কর ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প ‘মোংলা বন্দরে পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্প, ‘মোংলা বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প ‘ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প ও ‘সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্প। এছাড়া, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনঃনির্মাণ/পুনর্বাসন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯নং কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন’ প্রকল্প, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (৪র্থ সংশোধিত’ প্রকল্প। এছাড়া আরও দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৯টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সদস্যদের অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো- রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর কমপ্লেক্স, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি’র বাংলো নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬ টি এলাকা ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত), আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টংগিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়), আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট -২য় পর্যায় (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।
Tag :
এখন আলোচনায়

একনেকে ৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে এখনো বাড়তি রয়েছে

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • বাংলাদেশে ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই

  • ২০১০ সাল থেকে কোন বছরেই মার্চের আগে সব বই যায়নি

  • ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন


মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেটা এখনো বাড়তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মহামুদ। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি সবাই বলছে কিছুটা কমেছে, কিন্তু এটাকে কম বলে না। মূল্যাস্ফীতি এখনও বাড়তিই আছে। এর ফলে দিনমজুরদের উপর চাপ পড়ছে। মধ্যবিত্তরাও চাপে আছে।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ব্রিফিং এ তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সন্মেলন কক্ষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। গত সোমবার ডিসেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেখানে দেখা যায়, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়ায়। নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। যা নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, করোনা ও গণঅভ্যুত্থানের কারণে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি একটি ক্ষতি হয়েছে। এটা জনমিতির সুবিধার ক্ষেত্রে। জনসংখ্যা বয়স কাঠামোর মাঝামাঝি সময় চলছে। ১০ বছর পর জনসংখ্যার এই বয়সটা আর থাকবে না। কারন তাদের সবারই বয়স বেড়ে যাবে। তখন চিকিৎসমা খরচ অরেব বাড়বে। তবে সুশাসিত গণতান্ত্রিক শাসনে যদি উত্তরণ হতে পারি তাহলে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব নয়। এজন্য অন্তবর্তী সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত এটাই। আমাদেও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ভালো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভতি রচনা করা।
তিনি বলেন, রফতানি গতি ফিরে এসেছে। রেমিট্যান্স আগের থেকে বাড়ছে। এটা আশার কথা। মূল্যস্ফীতি সবাই বলছে কিছুটা কমেছে, কিন্তু এটাকে কম বলে না। মূল্যাস্ফীতি এখনও বাড়তিই আছে। এর ফলে দিনমজুরদের উপর চাপ পড়ছে। মধ্যবিত্তরাও চাপে আছে। উপদেষ্টা বলেন, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন অন্তর্বতী সরকারের নেয়া প্রকল্পে আসায় এডিপি বাস্তবায়নেও গতি আসবে। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের পানি ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র তৈরি করা দরকার।
উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মহামুদ বলেছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলীর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হবে। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ এবং বাড়ীসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করা হবে। আমি এসব মৌলিক কাজ করছি সেখানে মহার্ঘভাতার বিষয়টি মাথায় রাখছি না। এছাড়া ইতোমধ্যেই ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি দিয়ে শান্ত করেছি। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
২০১০ সাল থেকে কোন বছরেই মার্চের আগে বই যায়নি। কোন কোন বছর বই গিয়েছিল জুন-জুলাইয়ে। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস বিতর্কিত হয়েছে, সেটি নিয়ে কোন সম্পাদকীয়, উপ সম্পাদকীয় ছাপা হয়নি। অথচ রংপুরের আবু সাঈদের মৃত্যুর তারিখ ভুল হওয়া নিয়ে ব্যাপক নিউজ হয়েছে। আমরা বলোছি ভুল ভ্রান্তি হতে পারে। সেগুলো সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা একটা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা তৈরি করছি। বিশেষ করে জণবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপাত্ত দরকার। তবুও ডেল্টা প্ল্যান তার জায়গায় থাকবে। ওটা শতবছরের পরিকল্পনা। কিন্তু কোন বিশেষজ্ঞই বলতে পারবে না শত বছরে বাংলাদেশের কি অবস্থা হবে। তাই মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা দরকার।
এদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪ হাজার ২৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৩২ কোটি ০১ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ২০৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪০৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো- অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম কর ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প ‘মোংলা বন্দরে পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্প, ‘মোংলা বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প ‘ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প ও ‘সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্প। এছাড়া, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রীজ পুনঃনির্মাণ/পুনর্বাসন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯নং কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন’ প্রকল্প, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (৪র্থ সংশোধিত’ প্রকল্প। এছাড়া আরও দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৯টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সদস্যদের অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো- রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর কমপ্লেক্স, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি’র বাংলো নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬ টি এলাকা ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত), আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টংগিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়), আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট -২য় পর্যায় (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।