০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর-১ আসনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আরিফুর রহমান দোলনকে ঘিরে সমালোচনা

 

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর নামে পরিচালিত একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আরিফুর রহমান দোলনের নামে পরিচালিত দুটি ভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ওপর প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এসব লেখায় নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হচ্ছে না—এমন বক্তব্য দেওয়া হয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম বা পদ উল্লেখ করে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া প্রশাসনের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“নির্বাচনের সময় এভাবে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ছড়ানো নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, বরং সহানুভূতি আদায় বা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার কৌশল বলেই মনে হচ্ছে।”
সমালোচকদের আরও অভিযোগ, আরিফুর রহমান দোলনের স্ট্যাটাসগুলোতে একদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে নির্বাচনী মাঠে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্যও একজন প্রার্থীর জন্য অপরিহার্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের পর অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে আরিফুর রহমান দোলনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

ফরিদপুর-১ আসনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আরিফুর রহমান দোলনকে ঘিরে সমালোচনা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর নামে পরিচালিত একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আরিফুর রহমান দোলনের নামে পরিচালিত দুটি ভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ওপর প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এসব লেখায় নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হচ্ছে না—এমন বক্তব্য দেওয়া হয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম বা পদ উল্লেখ করে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া প্রশাসনের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“নির্বাচনের সময় এভাবে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ছড়ানো নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, বরং সহানুভূতি আদায় বা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার কৌশল বলেই মনে হচ্ছে।”
সমালোচকদের আরও অভিযোগ, আরিফুর রহমান দোলনের স্ট্যাটাসগুলোতে একদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে নির্বাচনী মাঠে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্যও একজন প্রার্থীর জন্য অপরিহার্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের পর অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে আরিফুর রহমান দোলনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি