
মাঠের চারপাশে শত শত নারী ও পুরুষ। সবার চোখে মুখে উৎসুক ভাব। দৌড়ে কে হবেন প্রথম আর কারা ছিটকে পড়বে চুড়ান্ত পর্ব থেকে। শনিবার সকাল থেকে জীবননগর বাঁকা ঘোষনগর মাঠে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপি গরুর দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। খেলার খবর জানাতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। শনিবার অংশ নেয়া ১৫ জন প্রতিযোগি নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যেই মুলত এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
গরুর গাড়ির চালক মিয়ারাজ হোসেন বলেন, মহেশপুর পান্তাপাড়ার কাগমারী থেকে দৌড় প্রতিযোগিতা করতে এসেছি। প্রতিবছর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলায় অংশ নিয়ে থাকি। এ যাবৎ ১০০ থেকে ১৫০ টির মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। এই মৌসুমে এরই মধ্যে ৩ টি খেলায় অংশ নেওয়া হয়েছে। প্রথম হয়েছি ঝিনাইদহের বারবাজার পিরোজপুর ও কাষ্টভাঙ্গা বেতাচন্ডিপুর গ্রামের মাঠে। আশা করছি এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হব।
খেলা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল হামিদ জানান, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে মুলত এই আয়োজন। আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে এসেছেন। আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।
তিনি বলেন, খেলায় ১৫ টি গাড়ি অংশ নিয়েছে। প্রতিটি রাউন্ডে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের বাছাই করা হচ্ছে। পরে তাদের ভিতর থেকে মধ্যে আবারও দ্বিতীয় রাউন্ড খেলায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।
বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন, বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল(অবসরপ্রাপ্ত) মনজুরুল মিলন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজাহান আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
খেলা শেষে প্রথম স্থান দখল করেন কাগমারী গ্রামের মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, দ্বিতীয় স্থান দখল করেন বৈদ্যনাথপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, তৃতীয় স্থানে সুবলপুর গ্রামের মুক্তারুল ইসলাম, চতুর্থ স্থানে গঙ্গাদাসপুর গ্রামের মো. নাসির উদ্দিন ও পঞ্চম স্থানে ঘোষনগর গ্রামের মো. ফিরোজ আলী।
আ চু/এ এইচ
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা 


















