১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শেখ হাসিনার পদত্যাগ

চুয়াডাঙ্গায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, আগুনে পুড়ে নিহত ৪

বাধভাঙ্গা উল্লাসে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা, বিজয় মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। দেশত্যাগের খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই চুয়াডাঙ্গার রাজপথে নেমে আসে আন্দোলনকারী ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। এই খুশিতে চুয়াডাঙ্গায় বিজয় মিছিল করেছে তারা।

এ সময় সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেতে দেখা যায়।  সোমবার বিকাল ৫টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বের হয় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। এরপর শহরের শহীদ হাসান চত্বরে একত্রিত হয়ে বিজয় মিছিল ও উল্লাস করে সাধারণ জনতা ও আন্দোলনকারীরা। বিজয় মিছিল থেকে শেখ হাসিনার পালানো নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

সোমবার আনন্দ উল্লাসে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামে সর্বস্তরের জনগণ। পুরো শহরজুড়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা। পরে বিজয় মিছিল থেকে শহরে আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের টানানো সকল ব্যানার-ফেষ্টুন ভাঙচুর করা হয়। পরে, জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ও তার সহদর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, আলুকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আলি রেজা সজলের বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুর, যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আসমান এর অফিস ভাংচুর ও আগুন, ছাত্রলীগ নেতা রিগানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বাড়িতে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এছাড়াও বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে অবস্থিত পুলিশ বক্সে ভাংচুর করে। এ সময় শহীদ হাসান চত্বরে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে আগুন লাগিয়ে উল্লাস করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শেখ হাসিনার দেশছাড়ার খবরে শহরের বড় বাজার, কোর্ট মোড়, পৌরসভা মোড়, নতুনবাজার এলাকা আনন্দ মিছিলে প্রকম্পিত হয়। বিভিন্ন দিকে পটকা ফুটিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। আনন্দ মিছিল চলাকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুন নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এদিকে, আরেফিন আলম রঞ্জুর বাড়িতে অগ্নি সংযোগের সময় তার বাড়িতে থাকা ৪জন আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছে। তারা সবাই পুরুষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের সিনেমা হল পাড়ার একটি বহুতল ভবনে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যায়। ওই বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া পর বাড়ির সিড়িঘর থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় যানা সম্ভব হয়নি। নিহতদের সবাই পুরুষ।

 

এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

শেখ হাসিনার পদত্যাগ

চুয়াডাঙ্গায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, আগুনে পুড়ে নিহত ৪

আপডেট সময় : ০৩:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪

বাধভাঙ্গা উল্লাসে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা, বিজয় মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। দেশত্যাগের খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই চুয়াডাঙ্গার রাজপথে নেমে আসে আন্দোলনকারী ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। এই খুশিতে চুয়াডাঙ্গায় বিজয় মিছিল করেছে তারা।

এ সময় সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেতে দেখা যায়।  সোমবার বিকাল ৫টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বের হয় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। এরপর শহরের শহীদ হাসান চত্বরে একত্রিত হয়ে বিজয় মিছিল ও উল্লাস করে সাধারণ জনতা ও আন্দোলনকারীরা। বিজয় মিছিল থেকে শেখ হাসিনার পালানো নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

সোমবার আনন্দ উল্লাসে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামে সর্বস্তরের জনগণ। পুরো শহরজুড়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা। পরে বিজয় মিছিল থেকে শহরে আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের টানানো সকল ব্যানার-ফেষ্টুন ভাঙচুর করা হয়। পরে, জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ও তার সহদর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, আলুকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আলি রেজা সজলের বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুর, যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আসমান এর অফিস ভাংচুর ও আগুন, ছাত্রলীগ নেতা রিগানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বাড়িতে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এছাড়াও বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে অবস্থিত পুলিশ বক্সে ভাংচুর করে। এ সময় শহীদ হাসান চত্বরে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে আগুন লাগিয়ে উল্লাস করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শেখ হাসিনার দেশছাড়ার খবরে শহরের বড় বাজার, কোর্ট মোড়, পৌরসভা মোড়, নতুনবাজার এলাকা আনন্দ মিছিলে প্রকম্পিত হয়। বিভিন্ন দিকে পটকা ফুটিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। আনন্দ মিছিল চলাকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুন নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এদিকে, আরেফিন আলম রঞ্জুর বাড়িতে অগ্নি সংযোগের সময় তার বাড়িতে থাকা ৪জন আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছে। তারা সবাই পুরুষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের সিনেমা হল পাড়ার একটি বহুতল ভবনে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যায়। ওই বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া পর বাড়ির সিড়িঘর থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় যানা সম্ভব হয়নি। নিহতদের সবাই পুরুষ।