
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর গ্রামে গতরাতের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষকদের স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে পড়েছে। প্রবল দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের তাণ্ডবে এলাকার বিস্তীর্ণ জমির বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুধু প্রাণনগর গ্রামই নয়, উপজেলার সাতোর, শিবরামপুর, মোহাম্মদপুর ও সুজালপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। এসব ইউনিয়নের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অনেক জমিতে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও আবার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ফলনের আশা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রাণনগর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সারা বছর কষ্ট করে এই ধান ফলাইছি। আর কয়েকটা দিন থাকলে ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু এক রাতের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতেছি না।
একই গ্রামের কৃষক বাদল ইসলামও হতাশ কণ্ঠে বলেন, আমার প্রায় সব জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। ভুট্টার ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে। এত কষ্টের পর এমন ক্ষতি মেনে নেওয়া খুব কঠিন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। হঠাৎ এই দুর্যোগে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। শাকসবজি ও ভুট্টার ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব বীরগঞ্জের কৃষকদের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।
মাহাবুর রহমান আঙ্গুর, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 


















