০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজলগাড়ি মাদ্রাসার ছাত্রের নিরুদ্দেশ নাটক: নেপথ্যে ছিল পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক অস্থিরতা

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দর্শনা থানাধীন হিজলগাড়ী বহুমুখী কওমীয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র সিয়ামের (১৪) নিরুদ্দেশ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অপহরণ বা মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক অস্থিরতা থেকেই ওই ছাত্র স্বেচ্ছায় মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়েছিল। বর্তমানে তার সন্ধান মিলেছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

​অপহরণ নয়, ছিল স্বেচ্ছায় প্রস্থান

​মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিয়াম কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সিয়াম স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে দোস্ত বাজারের দিকে চলে যাচ্ছে। উক্ত ফুটেজ ইতিমধ্যে দর্শনা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

​পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক কারণ

​এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সিয়ামের লেখাপড়ায় বিশেষ মনোযোগ ছিল না এবং সে মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুক ছিল। এ নিয়ে তার বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে সিয়ামের মানসিক দূরত্ব ও পারিবারিক চাপ তৈরি হয়। এদিকে, মাদ্রাসার সাপ্তাহিক রিভিশন পাঠ বা ‘ছবিনা’ সেমিনারের চাপে পড়ে সে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​আর্থিক অসঙ্গতি ও মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা

​মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, সিয়াম গত তিন মাস ধরে মাদ্রাসার বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও জেনারেটর বিল পরিশোধ না করে নিজের কাছে জমা রেখেছিল। পালানোর সময় তার কাছে নগদ প্রায় ৮ হাজার টাকা ছিল। একটি কুচক্রী মহল এই স্বাভাবিক পালানোর ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত ও প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​বর্তমান অবস্থান

​মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আনোয়ার হোসেন জানান: “সিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। সে চট্টগ্রাম হয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। অপপ্রচার চালিয়ে যারা মাদ্রাসার সম্মানহানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”

​পুলিশি তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শেষে পুরো বিষয়টি এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। একটি সাধারণ নিরুদ্দেশের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে শ্রেণিকক্ষ সংকটে বারান্দায় ও সিঁড়ির রুমে চলছে পাঠদান!

হিজলগাড়ি মাদ্রাসার ছাত্রের নিরুদ্দেশ নাটক: নেপথ্যে ছিল পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক অস্থিরতা

আপডেট সময় : ০৪:২৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দর্শনা থানাধীন হিজলগাড়ী বহুমুখী কওমীয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র সিয়ামের (১৪) নিরুদ্দেশ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অপহরণ বা মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক অস্থিরতা থেকেই ওই ছাত্র স্বেচ্ছায় মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়েছিল। বর্তমানে তার সন্ধান মিলেছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

​অপহরণ নয়, ছিল স্বেচ্ছায় প্রস্থান

​মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিয়াম কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সিয়াম স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে দোস্ত বাজারের দিকে চলে যাচ্ছে। উক্ত ফুটেজ ইতিমধ্যে দর্শনা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

​পড়াশোনার চাপ ও পারিবারিক কারণ

​এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সিয়ামের লেখাপড়ায় বিশেষ মনোযোগ ছিল না এবং সে মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুক ছিল। এ নিয়ে তার বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে সিয়ামের মানসিক দূরত্ব ও পারিবারিক চাপ তৈরি হয়। এদিকে, মাদ্রাসার সাপ্তাহিক রিভিশন পাঠ বা ‘ছবিনা’ সেমিনারের চাপে পড়ে সে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​আর্থিক অসঙ্গতি ও মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা

​মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, সিয়াম গত তিন মাস ধরে মাদ্রাসার বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও জেনারেটর বিল পরিশোধ না করে নিজের কাছে জমা রেখেছিল। পালানোর সময় তার কাছে নগদ প্রায় ৮ হাজার টাকা ছিল। একটি কুচক্রী মহল এই স্বাভাবিক পালানোর ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত ও প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​বর্তমান অবস্থান

​মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আনোয়ার হোসেন জানান: “সিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। সে চট্টগ্রাম হয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। অপপ্রচার চালিয়ে যারা মাদ্রাসার সম্মানহানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”

​পুলিশি তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শেষে পুরো বিষয়টি এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। একটি সাধারণ নিরুদ্দেশের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।