
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের একাডেমি মোড়ে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সাথে অত্যন্ত অশালীন ও উগ্র আচরণের অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি যৌথ দল জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
আটককৃত তিন যুবক হলেন:
১. রাজু হোসেন (২৫): উথলী গ্রামের আজগার আলীর ছেলে।
২. রিওন মিয়া (২৬): একই গ্রামের রায়হান আলীর ছেলে।
৩. শাওন (২৭): দর্শনা থানার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, রাজু ও শাওন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। উথলী বাসস্ট্যান্ড বাজারে তাদের একটি শোরুম রয়েছে এবং রিওন তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর আলমডাঙ্গার হাট থেকে পুরাতন মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রাজু, শাওন ও রিওন।
পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড়ে পুলিশের একটি নিয়মিত তল্লাশি চৌকির সামনে পড়েন তারা। এসময় পুলিশ তাদের একটি মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই শেষে ত্রুটি পাওয়ায় মামলা প্রদান করে।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রাজু ও শাওন। তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে চিৎকার, গালিগালাজ এবং হুমকি প্রদান করতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ একজন এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে যুবকরা চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অধিকাংশ নেটিজেন পুলিশের কাজে বাধা ও অসদাচরণের জন্য তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
আটক হওয়ার আগে রাজু গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বৈষম্যের কারণে। তার দাবি, তাদের মোটরসাইকেল আটকানো হলেও একই সময় অন্য এক ব্যবসায়ীর ১০টি মোটরসাইকেল যাচাই ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, ওই ১০টি মোটরসাইকেল ছিল শোরুমের একদম নতুন গাড়ি এবং সেগুলোর বৈধ চালান ছিল।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন:
“পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সাথে এমন অসদাচরণ এবং হুমকি প্রদান গুরুতর অপরাধ। এটি সরকারি কাজে সরাসরি বাধা দেওয়ার সামিল। ভাইরাল ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, রাস্তায় আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। বড় গাড়ি বা প্রভাবশালী কারোর ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখালে সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
তবে তারা এটিও একমত যে, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া বা অশালীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমানে আটককৃতদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 















