
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
তীব্র শীত আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সীমান্তঘেঁষা জেলা চুয়াডাঙ্গা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, আর হিমেল বাতাসের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ভোর থেকেই চুয়াডাঙ্গার আকাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও সূর্যের দেখা মেলেনি। দৃষ্টিসীমা কমে আসায় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এর সাথে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কনকনে ঠান্ডায় প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, ফলে রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতে লোকসমাগম অন্য সময়ের তুলনায় অনেক কম।
শীতের এই ভয়াবহতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চুয়াডাঙ্গা শহরের বস্তি এলাকা এবং গ্রামের খোলা জায়গায় সাধারণ মানুষকে খড়কুটো ও টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান:
“গায়ে দেওয়ার মতো ভালো কম্বল নেই। রাতে ঠান্ডায় ঘুম আসে না, তাই সকালে রাস্তার পাশে আগুন জ্বেলে শরীর গরম করার চেষ্টা করছি।”
হঠাৎ শীতের তীব্রতা বাড়ায় শহরের বড় বাজার ও ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সোয়েটার, জ্যাকেট এবং কম্বল কেনার জন্য সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
তবে চাহিদার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
তীব্র শীতের প্রভাবে জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকরা এই আবহাওয়াতে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ সতর্কতায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান:
আজকের তাপমাত্রা: সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর্দ্রতা: বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
পূর্বাভাস: উত্তরের এই শীতল হাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা কম, ফলে শীতের অনুভূতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে কৃষিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা, বিশেষ করে বোরো বীজতলা ও রবি শস্যের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
















