০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির নতুন নির্দেশিকা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় প্রান্তিক পর্যায়ের গর্ভবতী মা ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (MCBP) আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার সময় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৪’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সাপোর্টিং ইমপ্লিমেন্টেশন অফ মাদার এন্ড চাইল্ড বেনেফিট প্রোগ্রাম’ (SIMCBP) শীর্ষক প্রকল্প।

কর্মশালায় মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল গর্ভবতী মায়েদের ভাতাভোগী হিসেবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সঠিক সময় নির্ধারণ। প্রশিক্ষণে জানানো হয়, একজন গর্ভবতী নারীকে অবশ্যই তার গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এএনসি (ANC) কার্ড বা প্রসবপূর্ব সেবা কার্ডটি নিবিড়ভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এএনসি কার্ড কেবল ভাতার জন্য নয়, বরং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি দালিলিক প্রমাণ। এটি সঠিক থাকলে ভাতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সরকার মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে এই বিনিয়োগ করছে। প্রতি মাসে যে ৮৫০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে, সেটি যেন মা ও শিশুর পুষ্টি এবং সুচিকিৎসার কাজেই ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের কাউন্সিলর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের তদারকি বাড়াতে হবে।”

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অঃ দাঃ) মাকসুরা জান্নাত কর্মসূচির নতুন নির্দেশিকা ২০২৪-এর বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে এখন ভাতা সরাসরি মায়েদের অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে, যা দুর্নীতি কমিয়ে আনছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আলম।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং ভাতা বিতরণের সাথে যুক্ত ব্যাংক এশিয়া-র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় দুইজন সাধারণ ভাতাভোগী মা-কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়, যারা এই প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

প্রশিক্ষণে বলা হয়, বর্তমান সরকারের এই বৈপ্লবিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর ২/৩ বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা। মাসে ৮৫০ টাকা করে নিয়মিত এই অর্থ সহায়তা একজন মায়ের চিকিৎসা খরচ, পুষ্টিকর খাবার ক্রয় এবং শিশুর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই কর্মশালাটি দামুড়হুদা উপজেলার পৌরসভা এলাকার মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার

দামুড়হুদায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির নতুন নির্দেশিকা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেট সময় : ১০:৩৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় প্রান্তিক পর্যায়ের গর্ভবতী মা ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ (MCBP) আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার ২৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার সময় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৪’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সাপোর্টিং ইমপ্লিমেন্টেশন অফ মাদার এন্ড চাইল্ড বেনেফিট প্রোগ্রাম’ (SIMCBP) শীর্ষক প্রকল্প।

কর্মশালায় মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল গর্ভবতী মায়েদের ভাতাভোগী হিসেবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সঠিক সময় নির্ধারণ। প্রশিক্ষণে জানানো হয়, একজন গর্ভবতী নারীকে অবশ্যই তার গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এএনসি (ANC) কার্ড বা প্রসবপূর্ব সেবা কার্ডটি নিবিড়ভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এএনসি কার্ড কেবল ভাতার জন্য নয়, বরং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি দালিলিক প্রমাণ। এটি সঠিক থাকলে ভাতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সরকার মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে এই বিনিয়োগ করছে। প্রতি মাসে যে ৮৫০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে, সেটি যেন মা ও শিশুর পুষ্টি এবং সুচিকিৎসার কাজেই ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের কাউন্সিলর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের তদারকি বাড়াতে হবে।”

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অঃ দাঃ) মাকসুরা জান্নাত কর্মসূচির নতুন নির্দেশিকা ২০২৪-এর বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে এখন ভাতা সরাসরি মায়েদের অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে, যা দুর্নীতি কমিয়ে আনছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আলম।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং ভাতা বিতরণের সাথে যুক্ত ব্যাংক এশিয়া-র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় দুইজন সাধারণ ভাতাভোগী মা-কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়, যারা এই প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

প্রশিক্ষণে বলা হয়, বর্তমান সরকারের এই বৈপ্লবিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর ২/৩ বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা। মাসে ৮৫০ টাকা করে নিয়মিত এই অর্থ সহায়তা একজন মায়ের চিকিৎসা খরচ, পুষ্টিকর খাবার ক্রয় এবং শিশুর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই কর্মশালাটি দামুড়হুদা উপজেলার পৌরসভা এলাকার মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।