
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
১৪ ডিসেম্বর, একাত্তরের সেই কালো দিন। যেদিন জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠতম মেধাকে। সেই বেদনা ও আত্মত্যাগের দিনটিকে গভীরতম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
আজ রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি জানানো হলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
দিবসের সূচনা হয় আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায়। এই সময়ে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতারের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মার প্রতি সম্মান জানান। বধ্যভূমির নিস্তব্ধতা যেন একাত্তরের গণহত্যার নীরব সাক্ষ্য বহন করছিল।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। ইউএনও পান্না আকতারের সভাপতিত্বে এই সভায় উঠে আসে পাক হানাদার ও তাদের দোসরদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বুদ্ধিজীবীদের অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও পান্না আকতার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন:
“১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সদ্য স্বাধীন হতে যাওয়া জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘৃণ্য নীলনকশা। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক—আমাদের প্রতিটি মেধাবী মানুষ সেদিন শিকার হয়েছিলেন বর্বরতার। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে মেধাশূন্য করা, কিন্তু আমরা সেই রক্ত ঋণের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনে এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস।”
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন
নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস, এই আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই আমরা শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। এই আলোচনা সভা সেই চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, ডা. শারমিন আক্তার (ইউএইচএফপিও), অধ্যক্ষ ডঃ মফিজুর রহমান (সরকারি কলেজ), অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল (আলমডাঙ্গা থানা), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন, অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন (মহিলা ডিগ্রী কলেজ), মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক এবং আরও অনেকে।
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলি, আব্দুর রশিদ মোল্লা, আফজাল হোসেন, নবীছদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আলতাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার শেষে উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাসুদ কামালের পরিচালনায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতের মাধ্যমে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গার সকল স্তরের মানুষ একাত্তরের শহীদদের প্রতি তাদের চিরন্তন ঋণ ও শ্রদ্ধা পুনরায় নিবেদন করেন।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 












