১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারকরণে দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এবং তাদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চুয়াডাঙ্গা সার্কেল-এর পক্ষ থেকে এক মহতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারের সদস্যদের হাতে মোট ৬৪ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

​এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, যিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন।

​বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, এই অনুদানের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জন নিহতের পরিবার এবং গুরুতরভাবে আহত ২ জন ব্যক্তির পরিবার—সর্বমোট ১৪টি পরিবারকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

এই আর্থিক সহায়তা সড়ক দুর্ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং আকস্মিক ক্ষতির বোঝা কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​চেক হস্তান্তর পর্ব শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া বার্তা প্রদান করেন।

তিনি দেশের মূল্যবান জীবন রক্ষায় দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উপর জোর দেন।

​তিনি বিশেষভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
​“মোটরসাইকেল আরোহীদের অবশ্যই আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে বাইক চালাতে হবে। কোনোভাবেই অবৈধ বা ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালানো মেনে নেওয়া হবে না। এই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”

​জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, সড়কে প্রতিনিয়ত যে মূল্যবান জীবন ঝরে যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ হলো দক্ষ চালকের অভাব এবং সাধারণ জনগণের অসচেতনতা ও নিয়ম ভঙ্গের প্রবণতা।

তিনি উন্নত বিশ্বের সড়ক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, শুধু প্রশাসনের একক চেষ্টায় নয়, দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক ও যাত্রী উভয়কেই সচেতন ও দক্ষ হতে হবে।

তিনি দেশের সকল নাগরিককে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানটি সফল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিক উজ জামান ইসলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর সহকারী পরিচালক লিটন বিশ্বাস, জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল, বাস ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মুক্তা, টি আই প্রশাসন আমিরুল ইসলাম, মোটরযান পরিদর্শক নাহিদ হাসান, উচ্চমান সহকারী শাকিরুল ইসলাম এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সেক্রেটারী জাকির হোসেন সহ প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​এই অনুদান হস্তান্তর কর্মসূচি একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরক্ষা দিল, অন্যদিকে তেমনি এটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে

Tag :
এখন আলোচনায়

শেরপুরে ১১ স্বপ্ন সারথী পেলেন ব্র্যাকের সেলাই মেশিন

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারকরণে দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

​সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এবং তাদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), চুয়াডাঙ্গা সার্কেল-এর পক্ষ থেকে এক মহতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারের সদস্যদের হাতে মোট ৬৪ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

​এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, যিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন।

​বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, এই অনুদানের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জন নিহতের পরিবার এবং গুরুতরভাবে আহত ২ জন ব্যক্তির পরিবার—সর্বমোট ১৪টি পরিবারকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

এই আর্থিক সহায়তা সড়ক দুর্ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং আকস্মিক ক্ষতির বোঝা কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​চেক হস্তান্তর পর্ব শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া বার্তা প্রদান করেন।

তিনি দেশের মূল্যবান জীবন রক্ষায় দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উপর জোর দেন।

​তিনি বিশেষভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
​“মোটরসাইকেল আরোহীদের অবশ্যই আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে বাইক চালাতে হবে। কোনোভাবেই অবৈধ বা ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালানো মেনে নেওয়া হবে না। এই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”

​জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, সড়কে প্রতিনিয়ত যে মূল্যবান জীবন ঝরে যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ হলো দক্ষ চালকের অভাব এবং সাধারণ জনগণের অসচেতনতা ও নিয়ম ভঙ্গের প্রবণতা।

তিনি উন্নত বিশ্বের সড়ক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, শুধু প্রশাসনের একক চেষ্টায় নয়, দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক ও যাত্রী উভয়কেই সচেতন ও দক্ষ হতে হবে।

তিনি দেশের সকল নাগরিককে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানটি সফল করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিক উজ জামান ইসলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর সহকারী পরিচালক লিটন বিশ্বাস, জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল, বাস ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মুক্তা, টি আই প্রশাসন আমিরুল ইসলাম, মোটরযান পরিদর্শক নাহিদ হাসান, উচ্চমান সহকারী শাকিরুল ইসলাম এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সেক্রেটারী জাকির হোসেন সহ প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​এই অনুদান হস্তান্তর কর্মসূচি একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরক্ষা দিল, অন্যদিকে তেমনি এটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে