
বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরায় তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার দু’দিন আগে বিধি অমান্য করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পের অনুমোদন দেন শেখ হাসিনা। ১২০ কোটি টাকা মূল্যের সেই প্রকল্প অনুমোদনের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পূর্ণাঙ্গ কোরাম ছিল না। ফলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেই কমিটি অনুমোদন দেয়া ও প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০২ সালে মামলা করে।
এর আগে ২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো। পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাদী হয়ে একটি এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা (এন্টি করাপশন অফিসার) খান মো. মীজানুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্প বিষয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের (একনেক) সিদ্ধান্তকে আমলে নিয়ে মামলাগুলো করা হয়। একনেকের সিদ্ধান্তগুলো ছিল—প্রকল্পের পরামর্শকের ব্যয় বৃদ্ধি, ভবন নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যয় বৃদ্ধি।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লোপাটের খবর পায় ওই সময়ের দুদক। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক দুই দিন আগে ১৩ সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুপস্থিতিতে মাত্র ছয় সদস্যের উপস্থিতিতে নিয়ম লঙ্ঘন করে এই প্রকল্পের বৈধতা দেয় একনেক। ২০০২ সালে শেখ হাসিনাসহ ছয় মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়। অন্য আসামিরা ছিলেন- সাবেক মন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, এ এস এইচ কে সাদেক, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী ও মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তাদের তিনজনই এখন মৃত।
তিনটি মামলাতেই শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় যথাক্রমে ৭ জন, ৮ জন এবং ১২ জনকে। সূত্র: ভোরের কাগজ
অনলাইন ডেস্ক 
























