
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী। এর আগেও গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর টানা তিন মাসেরও বেশি সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এভাবে দফায় দফায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের নাগরিক সেবা প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়েছে রাজস্ব আদায়সহ পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমও।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্দেশিকা এবং মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক পরিপত্র অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাপ্তরিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে জনসেবা নিশ্চিত করতে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসে অবস্থানের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পরিপত্র জারির পরও সদর ইউপি চেয়ারম্যান কখনোই নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে আসতেন না। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন।
সরেজমিনে গত এক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য সেবাগ্রহীতা পরিষদ চত্বরে এসে চেয়ারম্যানের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ওয়ারিশ কায়েম সনদ, প্রত্যয়নপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সের মতো জরুরি সেবাগুলো আটকে রয়েছে। জানা গেছে, চেয়ারম্যান কার্যালয়ে না আসলেও পরিষদের কর্মচারীদের মাধ্যমে গোপনে তার বাড়িতে ফাইল পাঠিয়ে কিছু জরুরি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এজন্য সেবাগ্রহীতাদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জমির নামজারির জন্য দ্বৈত প্রত্যয়নপত্র নিতে তিনি টানা চারদিন পরিষদে গিয়েও চেয়ারম্যানের দেখা পাননি। একই অবস্থা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও ওয়ারিশ সনদের জন্য আসা একাধিক নাগরিকের।
সচেতন মহলের মতে, উপজেলা সদরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এভাবে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী এই নেতা বিএনপিসহ বিরোধী মত দমনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে বিএনপি জোটকে প্রতিহত করতে পরিষদ চত্বরে প্রীতিভোজ ও রাজনৈতিক সভার আয়োজন করেছিলেন তিনি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তিন মাস পর ফিরে এসে আবারও কিছুদিন অফিস করলেও, বর্তমানে তিনি প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ। নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নাঈম হাসান সরকারি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ আছেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে জরুরি চিঠিপত্র ও বিভিন্ন সনদে উনার স্বাক্ষর করিয়ে আনা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহিন আলম জানান, “চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা 


















