১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের দাপট বৃদ্ধি

চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে শীতের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতের কারণে ভোরবেলায় বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে উঠলেও জীবিকার তাগিদে তাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শ্রমজীবীদের জীবন চলছে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে। চুয়াডাঙ্গা শহরে কাজ করতে আসা কাঠমিস্ত্রি শাহিন আলী জানান, ভোর ছয়টার আগেই কাজে বের হয়েছেন। তীব্র ঠান্ডা আর কুয়াশায় শরীর কাঁপলেও কাজ না করলে সংসার চলে না। রিকশাচালক মাসুম মিয়া বলেন, রাতে রিকশা চালানোর সময়ে ঠান্ডার কারণে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। শীত এভাবে বাড়তে থাকলে রাতে রিকশা চালানো আরও কঠিন হবে।

শীতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ২০০–৩০০ শিশু ও বৃদ্ধ রোগী শীতজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-ঠান্ডা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবে বয়োবৃদ্ধ রোগী তুলনামূলক কম আসছেন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমবে এবং ডিসেম্বর মাসেই শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগও ক্রমশ বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
এখন আলোচনায়

শেরপুরে ১১ স্বপ্ন সারথী পেলেন ব্র্যাকের সেলাই মেশিন

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের দাপট বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে শীতের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতের কারণে ভোরবেলায় বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে উঠলেও জীবিকার তাগিদে তাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শ্রমজীবীদের জীবন চলছে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে। চুয়াডাঙ্গা শহরে কাজ করতে আসা কাঠমিস্ত্রি শাহিন আলী জানান, ভোর ছয়টার আগেই কাজে বের হয়েছেন। তীব্র ঠান্ডা আর কুয়াশায় শরীর কাঁপলেও কাজ না করলে সংসার চলে না। রিকশাচালক মাসুম মিয়া বলেন, রাতে রিকশা চালানোর সময়ে ঠান্ডার কারণে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। শীত এভাবে বাড়তে থাকলে রাতে রিকশা চালানো আরও কঠিন হবে।

শীতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ২০০–৩০০ শিশু ও বৃদ্ধ রোগী শীতজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-ঠান্ডা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবে বয়োবৃদ্ধ রোগী তুলনামূলক কম আসছেন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমবে এবং ডিসেম্বর মাসেই শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগও ক্রমশ বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।