১১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের তিন সদস্য আটক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: 
ছদ্মবেশে আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে কাজ দেয়ার নাম করে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। নতুন করে ঘড়ির ব্যবসার কথা বলে চক্রটি ব্যবসায়ী আলি হোসেনের কাছে কয়েক লাখ টাকা চায়।
চক্রটি জানায়, তারা তাদের শেয়ারের ৪ কোটি টাকা কাপড় নেয়ার ট্রলি ব্যাগে করে নিয়ে এসেছে। আপনার টাকা পেলেই আমরা নতুন ব্যবসার টাকা পরিশোধ করতে পারবো। চক্রটির দেয়া ঠিকানায় ব্যবসায়ী টাকা দিতে আসলে প্রতারক দলের সদস্যরা ছদ্মবেশি পুলিশের জালে আটকা পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানা কাউন্সিল পাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, উজ্জল চৌধুরি(৫৪) শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার খড়িসার গ্রামের মৃত শান্তি মিয়ার ছেলে উজ্জল চৌধুরী (৫৪), কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকার সি ব্লকের মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে হাসানুজ্জামান (৪৬) ও গোপালগঞ্জ জেলার মোখছেদপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত ইউনুস আলির ছেলে মাহাবুব আলম(৪৩)।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বলেন, মেহেরপুর জেলার পোস্ট অফিস পাড়ার বাবর আলির ছেলে আলি হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় প্রতারক চক্রটির সাথে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানাকাউন্সিল পাড়ায় কালাম নামের এক ব্যাক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় দুই মাস আগে।

উজ্জল চৌধুরি, হাসানুজ্জামান ও মাহাবুব আলম হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের নাম দিয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ পাশ্ববর্তী জেলায় প্রতারণার জাল বিস্তার করে। চক্রটি প্রথমে আলি হোসেনের কাছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে মেশিন সরবরাহের জন্য প্রলোভন দেখান। চক্রটি আলি হোসেনকে বলে কাজ পেতে হলে ৩৩ লাখ টাকা দিতে হবে। ব্যবসায়ী এরই মধ্যে চক্রটির অফিসে গিয়ে নগদ ৮ লাখ টাকা তুলে দেয়। বাকি টাকা চাইলে আলি হোসেন দিতে সময় নেয়। এর মধ্য চক্রটি ঘড়ির ব্যবসার কথা বলে আলি হোসেনকে অংশিদার হতে বলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আলি হোসেন বাকি টাকা নিয়ে প্রতারক চক্রের অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগে তিনি বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানায়। ব্যাবসায়ী টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ছদ্মবেশে পিছু নেয়। পুলিশ প্রথমে একজনকে আটক করে তাকে সাথে নিয়ে অফিসে গেলে আরও দুই জনকে আটক করে।

অফিস তল্লাশি করে কাগজপত্র, ফাইল ও একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে পুলিশ। প্রতারক চক্রটি ট্রলি ব্যাগে করে চার কোটি টাকা নিয়ে আসার কথা জানায় ব্যবসায়ীকে। পুলিশ ট্রলি ব্যাগ থেকে ৫ লিটারের দুটি পানির বোতল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলে জানান সদর থানার ওসি মাহাব্বুর রহমান।

 

 

Tag :
এখন আলোচনায়

নালিতাবাড়ীতে অটো চালকের বাড়িতে চুরির ঘটনায় ১ যুবক গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গায় আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের তিন সদস্য আটক

আপডেট সময় : ১০:০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: 
ছদ্মবেশে আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে কাজ দেয়ার নাম করে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। নতুন করে ঘড়ির ব্যবসার কথা বলে চক্রটি ব্যবসায়ী আলি হোসেনের কাছে কয়েক লাখ টাকা চায়।
চক্রটি জানায়, তারা তাদের শেয়ারের ৪ কোটি টাকা কাপড় নেয়ার ট্রলি ব্যাগে করে নিয়ে এসেছে। আপনার টাকা পেলেই আমরা নতুন ব্যবসার টাকা পরিশোধ করতে পারবো। চক্রটির দেয়া ঠিকানায় ব্যবসায়ী টাকা দিতে আসলে প্রতারক দলের সদস্যরা ছদ্মবেশি পুলিশের জালে আটকা পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানা কাউন্সিল পাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, উজ্জল চৌধুরি(৫৪) শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার খড়িসার গ্রামের মৃত শান্তি মিয়ার ছেলে উজ্জল চৌধুরী (৫৪), কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকার সি ব্লকের মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে হাসানুজ্জামান (৪৬) ও গোপালগঞ্জ জেলার মোখছেদপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত ইউনুস আলির ছেলে মাহাবুব আলম(৪৩)।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বলেন, মেহেরপুর জেলার পোস্ট অফিস পাড়ার বাবর আলির ছেলে আলি হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় প্রতারক চক্রটির সাথে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার থানাকাউন্সিল পাড়ায় কালাম নামের এক ব্যাক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় দুই মাস আগে।

উজ্জল চৌধুরি, হাসানুজ্জামান ও মাহাবুব আলম হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের নাম দিয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ পাশ্ববর্তী জেলায় প্রতারণার জাল বিস্তার করে। চক্রটি প্রথমে আলি হোসেনের কাছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে মেশিন সরবরাহের জন্য প্রলোভন দেখান। চক্রটি আলি হোসেনকে বলে কাজ পেতে হলে ৩৩ লাখ টাকা দিতে হবে। ব্যবসায়ী এরই মধ্যে চক্রটির অফিসে গিয়ে নগদ ৮ লাখ টাকা তুলে দেয়। বাকি টাকা চাইলে আলি হোসেন দিতে সময় নেয়। এর মধ্য চক্রটি ঘড়ির ব্যবসার কথা বলে আলি হোসেনকে অংশিদার হতে বলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আলি হোসেন বাকি টাকা নিয়ে প্রতারক চক্রের অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগে তিনি বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানায়। ব্যাবসায়ী টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ছদ্মবেশে পিছু নেয়। পুলিশ প্রথমে একজনকে আটক করে তাকে সাথে নিয়ে অফিসে গেলে আরও দুই জনকে আটক করে।

অফিস তল্লাশি করে কাগজপত্র, ফাইল ও একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে পুলিশ। প্রতারক চক্রটি ট্রলি ব্যাগে করে চার কোটি টাকা নিয়ে আসার কথা জানায় ব্যবসায়ীকে। পুলিশ ট্রলি ব্যাগ থেকে ৫ লিটারের দুটি পানির বোতল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলে জানান সদর থানার ওসি মাহাব্বুর রহমান।