১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ম পে-স্কেলের দাবিতে জীবননগরে সরকারি কর্মচারীদের উত্তাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সরকারি কর্মচারীরা এবার রাজপথে নেমেছেন। ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

আজ রবিবার ০১ ফ্রেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জীবননগর উপজেলা শাখার ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি জীবননগর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে এবং বৈষম্যবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলটি শহরের শাপলা চত্বর হয়ে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, “২০১৫ সালে শেষ পে-স্কেল দেওয়ার পর আজ দীর্ঘ ১০ বছর পার হতে চললেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এই সময়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমান বেতন দিয়ে মাসের অর্ধেক চলাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা চরম অবহেলার শিকার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যথায় তারা কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তারা বলেন, “আমরা পেটে ক্ষুধা নিয়ে সরকারি সেবা দিতে পারছি না। আমাদের দাবি ন্যায্য, আমাদের দাবি বাঁচার দাবি।”

উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্থানীয় নেতা:
মো. রাকিব ও তরিকুল ইসলাম
মো. রুহুল আমিন ও মো. আলী কদর, কাজল আহমেদ ও মো. খালিদ হোসেন, ওয়াসিম, মো. আবুল হোসেন, আব্দুর রশিদ ও হুমায়ুন কবীর এ ছাড়াও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কয়েক শতাধিক কর্মচারী এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

Tag :
এখন আলোচনায়

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

৯ম পে-স্কেলের দাবিতে জীবননগরে সরকারি কর্মচারীদের উত্তাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সরকারি কর্মচারীরা এবার রাজপথে নেমেছেন। ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

আজ রবিবার ০১ ফ্রেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জীবননগর উপজেলা শাখার ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি জীবননগর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে এবং বৈষম্যবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলটি শহরের শাপলা চত্বর হয়ে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, “২০১৫ সালে শেষ পে-স্কেল দেওয়ার পর আজ দীর্ঘ ১০ বছর পার হতে চললেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এই সময়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমান বেতন দিয়ে মাসের অর্ধেক চলাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা চরম অবহেলার শিকার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যথায় তারা কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তারা বলেন, “আমরা পেটে ক্ষুধা নিয়ে সরকারি সেবা দিতে পারছি না। আমাদের দাবি ন্যায্য, আমাদের দাবি বাঁচার দাবি।”

উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্থানীয় নেতা:
মো. রাকিব ও তরিকুল ইসলাম
মো. রুহুল আমিন ও মো. আলী কদর, কাজল আহমেদ ও মো. খালিদ হোসেন, ওয়াসিম, মো. আবুল হোসেন, আব্দুর রশিদ ও হুমায়ুন কবীর এ ছাড়াও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কয়েক শতাধিক কর্মচারী এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।