
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
নারী শিক্ষা, অধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার আদর্শকে ধারণ করে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
“নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১১:০০ ঘটিকায় প্রথমে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মূল আলোচনা সভা ও অদম্য নারীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান।
উক্ত আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পরিচালক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত-সহ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, নারী নেত্রী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে নারী সমাজের প্রতি বেগম রোকেয়ার দূরদর্শী ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “বেগম রোকেয়া তাঁর লেখনী ও কাজের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতিকে তুলে ধরেছেন এবং নারী শিক্ষায় উৎসাহ যুগিয়েছেন। আজকের দিনে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই নারী সমাজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।“
তিনি নারী নির্যাতন বন্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং বিশেষত ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা একটি জঘন্য অপরাধ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সাইবার হয়রানি বন্ধে জেলা পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। আমাদের অদম্য নারীদের সাহস ও উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”
আলোচনা সভার প্রধান আকর্ষণ ছিল বেগম রোকেয়ার প্রেরণায় উদ্দীপ্ত চুয়াডাঙ্গার পাঁচজন অদম্য নারীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা পেরিয়ে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত নারীরা হলেন:
১. অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী: নিজ উদ্যোগে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।
২. শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী: প্রতিকূল পরিবেশেও উচ্চশিক্ষা লাভ করে বা কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
৩. সফল জননী নারী: সন্তানদের সুশিক্ষিত করে সমাজ ও দেশের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
৪. নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোগে জীবন শুরু করেছেন যে নারী: শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও ভেঙে না পড়ে নতুন উদ্যমে জীবনের পথে ফিরে এসেছেন।
৫. সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী: সমাজসেবা, সংস্কৃতি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এই অদম্য নারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। তাঁদের জীবনসংগ্রামের কাহিনি উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত ও অনুপ্রাণিত করে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন নারী সমাজের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল এবং নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার আদর্শকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করল।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 

























