
সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সরকারি মহিলা কলেজের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভেসে উঠলো ‘ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রুপে ফিরবে, জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু’ লেখাটি পথচারীরা দেখতে পেয়ে উৎসুক জনতা ভীড় জমায় কলেজ চত্বরে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি তোলেন। এলাকা জুড়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। শনিবার (১১ জানুয়ারি) জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের ডিসপ্লে বোর্ডে লেখাটি ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে রাতে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন হোসেন বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিসপ্লে বোর্ডে ‘আওয়ামী লীগ আবারো ভয়ংকর রুপে ফিরবে’ লেখা ভেসে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, ডিজিটাল সাইনবোর্ড ডিসপ্লেতে ‘ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রুপে ফিরবে, জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ভেসে ওঠার পর উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের শান্ত করে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাটি শোনা মাত্র দ্রুত কলেজে পৌঁছায়। এসময় ডিজিটাল সাইনবোর্ডে ছাত্রলীগ নিয়ে লেখাটি ভেসে উঠেছে।এটা সত্যিই ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক।
তিনি আরো বলেন এই ডিজিটাল সাইনবোর্ডে লেখার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। বিশেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই ডিসপ্লেবোর্ড লাগানোর পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখানে কলেজের নাম লেখা দেখা যায়। আমাদের হাতে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া আর কোন কিছু হাতে নেই।তিনি আরো বলেন, রবিবার কলেজ খুললে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে এ রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক থাকবে।
জীবননগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এ ধরনের লেখা জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের ডিজিটাল সাইনবোর্ডে ভেসে ওঠা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।এছাড়াও তিনি বলেন ফ্যাসিবাদ খুনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের কোন অঙ্গ সংগঠনের চিহ্ন বাংলাদেশে থাকবে না আর এই সন্ত্রাসী সংগঠন প্রতিহতের জন্য আমরা সর্বদা সজাগ এবং প্রস্তুত আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি জানার পর দ্রুত কলেজে পৌঁছায়। লেখাটি দেখতে পাই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ডিজিটাল সাইনবোর্ডটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে মুল রহস্য উদঘাটনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বিশেষ সংবাদদাতা 














