
এ দেশে ফ্যাসিবাদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
নির্বাচন নিয়ে যত দেরি হবে, দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত বৃদ্ধি পাবে। যে স্বৈরাচারকে দেশের জনগণ জীবন দিয়ে সংগ্রাম করে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচার বসে নেই। তারা তাদের দেশি-বিদেশি প্রভুদের সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে দেশের সবাই যেসব সংস্কারের কথা বলছেন, এগুলো সত্যিকার অর্থেই বাস্তবায়ন সম্ভব, যদি প্রকৃত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। এর বাইরে, সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেজন্য জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন প্রয়োজন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, নির্বাচন যত দেরি হবে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসুবিধা কমে যাবে। কৃষকসহ সবাই যেসব সমস্যায় রয়েছেন, সেসব সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। একটি নির্বাচন দিয়েই সম্ভব দেশের সব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান করা।
যে দেশের রাজনীতি রুগ্ন, সে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই রুগ্ন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এগুলো আবার জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হলে নাগরিকের ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে হবে। এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।
দেলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান আরও বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে আপনার এলাকার মানুষের প্রত্যাশা। দায়িত্ব নিয়ে আপনার এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পুরণ করতে হবে। আপনাকে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সৈনিক মনে করে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই গণতান্ত্রিক দল ছিল না। তারা ফ্যাসিবাদী দল। ১৯৭২-১৯৭৫ সালে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেন শেখ মুজিব। এ দেশে ফ্যাসিবাদের জনক শেখ মুজিবুর রহমান, বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৬ বছরে কোথাও কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা করে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম করেছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশকে ব্যবহার করেও তারা হত্যা করেছে। গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেটি কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সম্ভব নয়।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনরোষে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেছে। তাই এখন এসব থেকে আল্লাহর রহমতে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী হাসান রুমি প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবুর সভাপতিত্ব এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ ও সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ।
এরআগে সকাল ১০টার মধ্যে সম্মেলনস্থল টাউন ফুটবল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা মঞ্চে আসন গ্রহণের পর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) পক্ষ থেকে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত দলের নেতা-কর্মীদের স্মরণে মঞ্চে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান বুলা। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতা, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। পরে সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার আবদুল জব্বার।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ জাহান খান, জাসাস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রউফুন নাহার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক তবারক আলী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান লিপটন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি।
বিশেষ সংবাদদাতা 


















