
ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ও ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেনের রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং চুয়াডাঙ্গা স্টেশন হয়ে চলাচল অব্যাহত রাখার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। সোমবার (০৪ নভেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে চুয়াডাঙ্গায় পৌছালে রেলস্টেশনে আটকে রেখে রেললাইনের উপর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ট্রেনটি আটকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে দুপুর ১২টা ১০মিনিটে অবরোধকারীরা রেলপথ থেকে সরে গেলে ট্রেনটি ১০ মিনিট বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ও বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটি ১৫ নভেম্বর থেকে চুয়াডাঙ্গা পরিহার করে যশোর-নড়াইল হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা। এমন খবর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেন দুটির রুট পরিবর্তন হলে চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলার মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। ফলে দুটি ট্রেনের রুট বদল না করার দাবিতে তাঁরা রেলপথ অবরোধ ও মানববন্ধন করেন।
এ সময় চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় ট্রেন যাত্রী সালমান হোসেন বলেন, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রত্যাহার করে যশোর-খুলনা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাবে বলে জেনেছি। এটি কোনোভাবেই আমরা হতে দেব না। এমন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আমার চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে মানববন্ধন করছি।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে ট্রেন কেন, একটি পাথর আমরা সরাতে দেব না। ট্রেন দুটি তো থাকবেই, অনেক আগে থেকে আরও নতুন ট্রেন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। সেই দাবি না মানলে আমরা কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মিজানুর রহমান জানান, শুনেছি সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রত্যাহার করে যশোর-খুলনা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাবে বলে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এলাকাবাসী হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু করে। ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে পৌছালে বিক্ষোভকারীরা রেললাইনের উপর দাড়িয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। আমি তাদেরকে বুঝিয়েছি এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলেছি। পরে বিক্ষোভকারীরা রেললাইন থেকে সরে যায়। বিক্ষোভের কারনে আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১০ মিনিট বিলম্বে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বিশেষ সংবাদদাতা 
















