০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের বিবস্ত্র করে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা!

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ৯৭ Time View

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাধারণ মানুষদের আটক করে এখন নির্যাতন চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলিদের হাতে নির্মমতার শিকার হওয়া তিন ভাই জানিয়েছেন, তাদেরসহ আরো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে মারধর, শরীরের কাপড় খুলে ফেলা, সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ সহ অন্যান্য আমানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন সোবহি ইয়াসিন ও তার দুই ভাই সাদি ও ইব্রাহিম। তারা বর্তমানে রাফাহতে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন।

তাদের অভিযোগ, আটকের পর ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা তাদের মারধর করেছেন। শুধু তাই নয়, নগ্ন করে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হয়েছে। তাদের শরীরে প্রস্রাব করেছেন ইসরায়েলি সেনারা।

সোবহি, সাদি ও ইব্রাহিমের বাড়ি গাজার উত্তরাঞ্চলে জেইতুন এলাকায়। পেশায় তারা দিনমজুর। জেইতুন থেকে আটক হয়েছিলেন তারা। সপ্তাহ দুয়েক তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে অজ্ঞাতনামা জায়গায় রাখা হয়েছিল। তারা কয়েক দিন একটি সামরিক ব্যারাকেও ছিলেন।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সোবহি বলেন, জোর করে আমাদের একটি ট্রাকে তোলা হয়। পায়ে আঘাত পাওয়ায় আমি উঁচু ট্রাকে উঠতে পারছিলাম না। এ সময় চারজন আমাকে পেছন থেকে মারধর করে। পরে একটি খোলা জায়গায় নিয়ে শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হয়। পানি ছিটানো হয়। এমনকি আমাদের ওপর প্রস্রাব করে তারা।

সাদি জানান, আটকের পর তাকে আরো অনেকের সঙ্গে একটি আবর্জনার ট্রাকে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ওরা আমাদের মারছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে আরো বেশি মারা হচ্ছিল। এরপর আমাদের তল্লাশি করা হয়। অর্থ, আইডি কার্ড ও ফোন নিয়ে নেয়া হয়।

তাদের আরেক ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমাদের হাত ও চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওরা আমাদের ঘুমাতে দেয়নি। শাস্তি হিসেবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীকালে তিন ভাইকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গাজা-ইসরায়েলের খেরেম শালম ক্রসিংয়ে ছেড়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আরো অনেকের সঙ্গে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে রাফাহ এলাকায় আসেন তারা। সেখানে শরণার্থীশিবিরে হাজারো উদ্বাস্তুর সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন তিন ভাই।

শরণার্থীশিবিরে আরো অনেকেই এই তিন ভাইয়ের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ও অশোভন আচরণের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর থেকে দেয়া এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, হামাসের সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। আরো বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আচরণ করা হয়। তবে সঙ্গে অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক বহন করছেন কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাপড় বদল করতে বলা হয়।

Tag :
এখন আলোচনায়

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনিদের বিবস্ত্র করে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা!

আপডেট সময় : ১১:১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাধারণ মানুষদের আটক করে এখন নির্যাতন চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলিদের হাতে নির্মমতার শিকার হওয়া তিন ভাই জানিয়েছেন, তাদেরসহ আরো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে মারধর, শরীরের কাপড় খুলে ফেলা, সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ সহ অন্যান্য আমানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন সোবহি ইয়াসিন ও তার দুই ভাই সাদি ও ইব্রাহিম। তারা বর্তমানে রাফাহতে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন।

তাদের অভিযোগ, আটকের পর ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা তাদের মারধর করেছেন। শুধু তাই নয়, নগ্ন করে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হয়েছে। তাদের শরীরে প্রস্রাব করেছেন ইসরায়েলি সেনারা।

সোবহি, সাদি ও ইব্রাহিমের বাড়ি গাজার উত্তরাঞ্চলে জেইতুন এলাকায়। পেশায় তারা দিনমজুর। জেইতুন থেকে আটক হয়েছিলেন তারা। সপ্তাহ দুয়েক তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে অজ্ঞাতনামা জায়গায় রাখা হয়েছিল। তারা কয়েক দিন একটি সামরিক ব্যারাকেও ছিলেন।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সোবহি বলেন, জোর করে আমাদের একটি ট্রাকে তোলা হয়। পায়ে আঘাত পাওয়ায় আমি উঁচু ট্রাকে উঠতে পারছিলাম না। এ সময় চারজন আমাকে পেছন থেকে মারধর করে। পরে একটি খোলা জায়গায় নিয়ে শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হয়। পানি ছিটানো হয়। এমনকি আমাদের ওপর প্রস্রাব করে তারা।

সাদি জানান, আটকের পর তাকে আরো অনেকের সঙ্গে একটি আবর্জনার ট্রাকে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ওরা আমাদের মারছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে আরো বেশি মারা হচ্ছিল। এরপর আমাদের তল্লাশি করা হয়। অর্থ, আইডি কার্ড ও ফোন নিয়ে নেয়া হয়।

তাদের আরেক ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমাদের হাত ও চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওরা আমাদের ঘুমাতে দেয়নি। শাস্তি হিসেবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীকালে তিন ভাইকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গাজা-ইসরায়েলের খেরেম শালম ক্রসিংয়ে ছেড়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আরো অনেকের সঙ্গে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে রাফাহ এলাকায় আসেন তারা। সেখানে শরণার্থীশিবিরে হাজারো উদ্বাস্তুর সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন তিন ভাই।

শরণার্থীশিবিরে আরো অনেকেই এই তিন ভাইয়ের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ও অশোভন আচরণের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্রের দপ্তর থেকে দেয়া এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, হামাসের সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। আরো বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আচরণ করা হয়। তবে সঙ্গে অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক বহন করছেন কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাপড় বদল করতে বলা হয়।