
চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানের দাবিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার চুয়াডাঙ্গার বড়বাজারের শহীদ হাসান চত্বর মোড়ে এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোঃ তৌহিদ হোসেন।
সমাবেশে বক্তারা চুয়াডাঙ্গা শহর ও জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে জেলার সাধারণ মানুষ নানাবিধ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শহরে দ্রুত ওভারপাস নির্মাণ, সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি বন্ধ, মাথাভাঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ রোধ, শহরের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা, দর্শনা ও জীবননগরে আন্তর্জাতিক মানের স্থলবন্দর স্থাপন, জেলা পরিষদের লাল ভবনকে ‘স্বাধীনতা ভবন’ ঘোষণা, আবুল হোসেন লাইব্রেরি ও শ্রীমন্ত টাউন হলকে পৌরসভার অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করা, জেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন সড়ক নামাজি ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং জীবননগরের পাথিলা কৃষি ফার্মে কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
বক্তারা বলেন, এসব দাবি শুধু উন্নয়নের জন্য নয়, বরং জেলার সার্বিক অগ্রগতি, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা অবহেলিত থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সন্ত্রাসমুক্ত, আধুনিক ও উন্নত চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে আরোও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মোঃ আবু হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শেখ সেলিম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম সনি, সদস্য মোছাম্মদ জাহানারা বেগম, মোহাম্মদ শাজাহান আলী, মরিয়ম আক্তার পিংকি প্রমুখ।
বিশেষ প্রতিনিধি 


















