০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শার্শায় খাল পুনর্খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে এলপিজি কার্ড

মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করার ঘোষণা 

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারী প্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকার এবার ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদের পৌঁছে দেব- যাতে করে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারা দেশে এ উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই- যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যশোর-১ এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনাসহ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উলাশী খাল খননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শার্শা উপজেলার দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

যশোরে সড়কের দুই পাশে জনতার ঢল, প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা : যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী খাল পুনর্খননে আসার পথে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশজুড়েই উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপলক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়া। সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় যশোর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।

সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। এরপর যশোর বিমান বন্দর থেকে বসে চড়ে উলশীর উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ৩০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে দুই পাশে দাঁড়ানো হাজার হাজার লোকজন স্লোগান দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী বাসের মধ্যে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী আসার খবরে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও পুরো রাস্তা হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

ফুলের রাজ্য গদখালী ও ঝিকরগাছায় দেখা গেছে ভিন্ন আবহ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান জনসাধারণ। এ সময় রাস্তায় ফুল ছিটিয়ে রাখেন তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বাসটি গদখালীতে পৌঁছানো মাত্রই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম যশোর সফর। খাল খনন কর্মসূচি, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন এবং ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করব : মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় তিনি মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য, মা-বোনেরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি মেট্রিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলন। পরে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। এ বিএনপি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। বিএনপি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ পূরণ করতে চায়। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- ইনশাআল্লাহ, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব। যাতে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের আমরা সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, জিরা, চিনি, প্যান্ট পিছ ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ

শার্শায় খাল পুনর্খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে এলপিজি কার্ড

আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করার ঘোষণা 

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারী প্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকার এবার ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদের পৌঁছে দেব- যাতে করে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারা দেশে এ উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই- যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যশোর-১ এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনাসহ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উলাশী খাল খননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শার্শা উপজেলার দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

যশোরে সড়কের দুই পাশে জনতার ঢল, প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা : যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী খাল পুনর্খননে আসার পথে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশজুড়েই উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপলক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়া। সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় যশোর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।

সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা। এরপর যশোর বিমান বন্দর থেকে বসে চড়ে উলশীর উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ৩০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে দুই পাশে দাঁড়ানো হাজার হাজার লোকজন স্লোগান দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী বাসের মধ্যে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী আসার খবরে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও পুরো রাস্তা হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

ফুলের রাজ্য গদখালী ও ঝিকরগাছায় দেখা গেছে ভিন্ন আবহ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান জনসাধারণ। এ সময় রাস্তায় ফুল ছিটিয়ে রাখেন তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বাসটি গদখালীতে পৌঁছানো মাত্রই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম যশোর সফর। খাল খনন কর্মসূচি, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন এবং ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করব : মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় তিনি মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য, মা-বোনেরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি মেট্রিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলন। পরে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। এ বিএনপি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। বিএনপি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ পূরণ করতে চায়। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- ইনশাআল্লাহ, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব। যাতে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের আমরা সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।