১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে: চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস পালিত, শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস—যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) জেলাটিতে পালিত হয়েছে। এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে শত্রু মুক্ত হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা।

দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং জেলার সর্বস্তরের জনগণ।

দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় বিনম্র শ্রদ্ধার মাধ্যমে। রোববার সকালে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেস উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের বেদীতে ফুল দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। দেশের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়, যা মুক্তিকামী মানুষের চেতনার প্রকাশ ঘটায়।

র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মূল আলোচনা সভা। চুয়াডাঙ্গার স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরে এতে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বক্তারা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার মুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই মুক্ত দিবস শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ জামান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান
সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিবলু
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং মিত্রবাহিনীর সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।

তাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

১৯৭১ সালের এই দিনে, অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর এই দিনেই মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

শত্রুমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা, উড়ে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। এই মুক্ত দিবস তাই চুয়াডাঙ্গাবাসীর কাছে অত্যন্ত আবেগ ও গৌরবের দিন।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুনারুঘাটে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে: চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস পালিত, শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৬:০১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস—যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) জেলাটিতে পালিত হয়েছে। এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে শত্রু মুক্ত হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা।

দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং জেলার সর্বস্তরের জনগণ।

দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় বিনম্র শ্রদ্ধার মাধ্যমে। রোববার সকালে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেস উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের বেদীতে ফুল দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। দেশের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়, যা মুক্তিকামী মানুষের চেতনার প্রকাশ ঘটায়।

র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মূল আলোচনা সভা। চুয়াডাঙ্গার স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরে এতে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বক্তারা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার মুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই মুক্ত দিবস শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ জামান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান
সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিবলু
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং মিত্রবাহিনীর সহযোগিতার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।

তাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

১৯৭১ সালের এই দিনে, অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর এই দিনেই মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

শত্রুমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা, উড়ে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। এই মুক্ত দিবস তাই চুয়াডাঙ্গাবাসীর কাছে অত্যন্ত আবেগ ও গৌরবের দিন।