০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের সম্পদ লুট করেছে : প্রধানমন্ত্রী

অনলােইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শাসনামল মানেই দেশে লুটপাট, অর্থপাচার আর মানুষকে হত্যা করা- মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যখন কষ্ট পায়, তখন তারা আরও কষ্ট দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। যারা মানুষের জীবনের কোনো মূল্য দেয় না, যারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা করতে পারে, তারা মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। তাই বিএনপি-জামায়াত জোট যখনি ক্ষমতায় এসেছে তখনি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা মিঠামইনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এদিকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সোমবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক হাজার বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে চড়ে মানুষ সভাস্থলে উপস্থিত হন।

১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন হাওড়ে। দীর্ঘদিন পরে আবার তিনি এলেন। তাকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তোরণ নির্মাণ করা হয়। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় রাস্তাঘাট।

কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা দলে দলে মিঠামইন হ্যালিপেড মাঠে সভাস্থলে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী সফর উপলক্ষে বিভিন্ন স্স্নোগানে মুখরিত হয় হাওড়ের চারপাশ। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর রং-বেরঙের পোশাকে উচ্ছ্বসিত হাওড়বাসী ভোর থেকেই যাত্রা শুরু করেন মঞ্চের দিকে।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী যখন মিঠামইনে এসেছিলেন তখন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। ছিল না কোনো অবকাঠামো বা উন্নয়ন কর্মকান্ড। সব মিলিয়ে চরম অবহেলিত জনপদ ছিল মিঠামইন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে গত ১৪ বছরে রাস্তাঘাটসহ বিপুল উন্নয়ন হয়েছে হাওড়াঞ্চলে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ হাওড়বাসী। একই সঙ্গে তিনি মিঠামইনে আসায় খুব খুশি তারা। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে জাতির পিতার হাতে গড়া গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষের কল্যাণ হয়, দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দেশের মানুষ সুখে থাকে। এই সরকারের আমলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও শোষণ করা ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনি বিএনপি, পারবেও না। এর কারণ হচ্ছে, যাদের হাতে দলটির সৃষ্টি তারা কখনো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসে দলটি বানিয়েছিল। উচ্চ আদালতও এই ক্ষমতা গ্রহণকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে।’

এ সময় তিনি বিগত ১৪ বছরে হাওড়াঞ্চলের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘হাওড় এলাকা এক সময় দেশের অন্যতম পশ্চাৎপদ ও অবহেলিত জনপদ ছিল। টানা তিন মেয়াদে থাকা এই সরকারের আমলেই অল ওয়েদার সড়ক ও সাব-মার্জিবল (ডুবো) সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও গতি এসেছে।’

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- এমনটা উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য হাওড়বাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আঞ্চলিক ভাষায় জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, ‘বাইয়া দে, নৌকা’। উপস্থিত মানুষও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্স্নোগান দেন, ‘বাইয়া দে নৌকা’ বলে।

জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ, সৎ, জনপ্রিয় সাহসী নেতার নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে খেলা হবে। বিএনপি পথ হারিয়ে এখন পদযাত্রা করছে। তাদের পদযাত্রা প্রস্থে বাড়ছে কিন্তু দৈর্ঘ্যে কমছে। শেখ হাসিনার সরকারকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তারা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি যে হাত দিয়ে সন্ত্রাস করবে সে হাত ভেঙে দেওয়ার জন্য বুকে সাহস নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এর আগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সকাল ১১টা ২১ মিনিটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা মহামারি, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, তার ওপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, যার ফলে আজ সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। পরিবহণ খরচ বেড়েছে, পণ্যমূল্য বেড়েছে, প্রতিটি জিনিসের মূল্য আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে, আমাদের দেশে এখনও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে আহ্বান করেছি যেহেতু খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে, এক ইঞ্চি জায়গাও আমরা অনাবাদী রাখব না। সব অনাবাদী জমি আমরা আবাদের আওতায় আনব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে। আমরা সেনানিবাসের আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছি। এই সেনানিবাস হাওড় এলাকার নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে হয়। আমাদের রাষ্ট্রপতি এই অঞ্চল থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুর্গম অঞ্চলের মানুষের পাশে থাকা, তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়া, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তিনি যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই অঞ্চলে একটি সেনানিবাস হোক। তারই ইচ্ছায় এই সেনানিবাস আমরা গঠন করেছি এবং তার নামেই এই সেনানিবাস আমরা উৎসর্গ করেছি। তার নামে এই সেনানিবাস করতে পেরে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত।’ শেখ হাসিনা বলেন, অবাধ পানি প্রবাহ ও নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনের জন্য হাওড় অঞ্চলের প্রতিটি সড়ক এলিভেটেড করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই জমি ভরাট না করে হাওড়, বিল ও জলাভূমি এলাকার প্রতিটি রাস্তা এলিভেটেড করার নির্দেশনা দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের চলাচল যেন বাধাগ্রস্ত না হয় এবং নৌকাসহ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন ব্যাহত না হয়- সেজন্য সকল সড়ক এলিভেটেড করা হবে।’

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে তার পৈতৃক নিবাস কামালপুরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণীসহ অন্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। জানা গেছে, জোহরের নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একই টেবিলে দুপুরের খাবার খান প্রধানমন্ত্রী। ১৬ রকমের মাছসহ নানা পদে আপ্যায়ন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবারে সাদা ভাতের সঙ্গে ছিল রুই, কাতল, চিতল, আইড়, পাবদা, গোলসা টেংরা, কালাবাউশ দোপেঁয়াজো; শোল, বাইম, চিংড়ি, বোয়াল, গ্রাস কার্প, বাছা মাছ ভুনা; রিটা ও পাঙাশ মাছের ঝোল, মসুর ডাল, সালাদ, রসমালাই।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর দুপা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ; আদালতে মামলা

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের সম্পদ লুট করেছে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

অনলােইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শাসনামল মানেই দেশে লুটপাট, অর্থপাচার আর মানুষকে হত্যা করা- মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যখন কষ্ট পায়, তখন তারা আরও কষ্ট দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। যারা মানুষের জীবনের কোনো মূল্য দেয় না, যারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা করতে পারে, তারা মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। তাই বিএনপি-জামায়াত জোট যখনি ক্ষমতায় এসেছে তখনি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা মিঠামইনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এদিকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সোমবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক হাজার বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে চড়ে মানুষ সভাস্থলে উপস্থিত হন।

১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন হাওড়ে। দীর্ঘদিন পরে আবার তিনি এলেন। তাকে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তোরণ নির্মাণ করা হয়। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলা হয় রাস্তাঘাট।

কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা দলে দলে মিঠামইন হ্যালিপেড মাঠে সভাস্থলে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী সফর উপলক্ষে বিভিন্ন স্স্নোগানে মুখরিত হয় হাওড়ের চারপাশ। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর রং-বেরঙের পোশাকে উচ্ছ্বসিত হাওড়বাসী ভোর থেকেই যাত্রা শুরু করেন মঞ্চের দিকে।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী যখন মিঠামইনে এসেছিলেন তখন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। ছিল না কোনো অবকাঠামো বা উন্নয়ন কর্মকান্ড। সব মিলিয়ে চরম অবহেলিত জনপদ ছিল মিঠামইন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে গত ১৪ বছরে রাস্তাঘাটসহ বিপুল উন্নয়ন হয়েছে হাওড়াঞ্চলে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ হাওড়বাসী। একই সঙ্গে তিনি মিঠামইনে আসায় খুব খুশি তারা। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে জাতির পিতার হাতে গড়া গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষের কল্যাণ হয়, দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দেশের মানুষ সুখে থাকে। এই সরকারের আমলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও শোষণ করা ছাড়া আর কিছু দিতে পারেনি বিএনপি, পারবেও না। এর কারণ হচ্ছে, যাদের হাতে দলটির সৃষ্টি তারা কখনো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসে দলটি বানিয়েছিল। উচ্চ আদালতও এই ক্ষমতা গ্রহণকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে।’

এ সময় তিনি বিগত ১৪ বছরে হাওড়াঞ্চলের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘হাওড় এলাকা এক সময় দেশের অন্যতম পশ্চাৎপদ ও অবহেলিত জনপদ ছিল। টানা তিন মেয়াদে থাকা এই সরকারের আমলেই অল ওয়েদার সড়ক ও সাব-মার্জিবল (ডুবো) সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও গতি এসেছে।’

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- এমনটা উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য হাওড়বাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আঞ্চলিক ভাষায় জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, ‘বাইয়া দে, নৌকা’। উপস্থিত মানুষও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্স্নোগান দেন, ‘বাইয়া দে নৌকা’ বলে।

জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ, সৎ, জনপ্রিয় সাহসী নেতার নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে খেলা হবে। বিএনপি পথ হারিয়ে এখন পদযাত্রা করছে। তাদের পদযাত্রা প্রস্থে বাড়ছে কিন্তু দৈর্ঘ্যে কমছে। শেখ হাসিনার সরকারকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তারা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি যে হাত দিয়ে সন্ত্রাস করবে সে হাত ভেঙে দেওয়ার জন্য বুকে সাহস নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এর আগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সকাল ১১টা ২১ মিনিটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা মহামারি, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, তার ওপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, যার ফলে আজ সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। পরিবহণ খরচ বেড়েছে, পণ্যমূল্য বেড়েছে, প্রতিটি জিনিসের মূল্য আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে, আমাদের দেশে এখনও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে আহ্বান করেছি যেহেতু খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে, এক ইঞ্চি জায়গাও আমরা অনাবাদী রাখব না। সব অনাবাদী জমি আমরা আবাদের আওতায় আনব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে। আমরা সেনানিবাসের আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছি। এই সেনানিবাস হাওড় এলাকার নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে হয়। আমাদের রাষ্ট্রপতি এই অঞ্চল থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুর্গম অঞ্চলের মানুষের পাশে থাকা, তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়া, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তিনি যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই অঞ্চলে একটি সেনানিবাস হোক। তারই ইচ্ছায় এই সেনানিবাস আমরা গঠন করেছি এবং তার নামেই এই সেনানিবাস আমরা উৎসর্গ করেছি। তার নামে এই সেনানিবাস করতে পেরে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত।’ শেখ হাসিনা বলেন, অবাধ পানি প্রবাহ ও নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনের জন্য হাওড় অঞ্চলের প্রতিটি সড়ক এলিভেটেড করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই জমি ভরাট না করে হাওড়, বিল ও জলাভূমি এলাকার প্রতিটি রাস্তা এলিভেটেড করার নির্দেশনা দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের চলাচল যেন বাধাগ্রস্ত না হয় এবং নৌকাসহ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন ব্যাহত না হয়- সেজন্য সকল সড়ক এলিভেটেড করা হবে।’

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে তার পৈতৃক নিবাস কামালপুরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেখানে পৌঁছান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণীসহ অন্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। জানা গেছে, জোহরের নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একই টেবিলে দুপুরের খাবার খান প্রধানমন্ত্রী। ১৬ রকমের মাছসহ নানা পদে আপ্যায়ন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবারে সাদা ভাতের সঙ্গে ছিল রুই, কাতল, চিতল, আইড়, পাবদা, গোলসা টেংরা, কালাবাউশ দোপেঁয়াজো; শোল, বাইম, চিংড়ি, বোয়াল, গ্রাস কার্প, বাছা মাছ ভুনা; রিটা ও পাঙাশ মাছের ঝোল, মসুর ডাল, সালাদ, রসমালাই।