১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় আসামীকে দ্রুত আটক ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়ায় সাদিয়া সুলতানা ওরফে নয়নতারাকে (৩৫) হত্যা করে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নয়নতারার মা মাছুরা খাতুন বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামালা দায়ের করেন। মামলার কয়েকদিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত আসামী আনোয়ার হোসেনকে আটক করতে পারে নি পুলিশ। নিহত সাদিয়া সুলতানা ওরফে নয়নতারা মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জতারপুর গ্রামের আনছার আলীর মেয়ে।

এদিকে, ঘাতক আনোয়ার হোসেনের দ্রুত আটক ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন শেষে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে নয়নতারার পরিবার ও তার গ্রামের লোকজন। ০৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে, বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের নিকট স্বারকলিপি পেশ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নয়নতারার চাচাতো ভাই ওসমান গনি, প্রতিবেশি চাচা আব্দুল মান্নান, নয়নতারার মেয়ে ৮শ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস টুনি ও একমাত্র ছেলে সাতবছর বয়সি জিহাদ হাসান মেহেদী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খুনি আনোয়ার হোসেনকে অবিলম্বে আটক করে দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসির কার্যকর করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, আমরা জানি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যাক্তি। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া কলোনীপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে সাদিয়া সুলতানাকে হত্যা করে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০ টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে মাথায় উপর্যূপরি রড দিয়ে আঘাত তরে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী আনোয়ার হোসেন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের একমাত্র মেয়ে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস টুনিকে (১৬) রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে তার বাবা। আহত টুনিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
তাদের একমাত্র মেয়ে আহত জান্নাতুল ফেরদৌস টুনি ঘটনার দিন তার বক্তব্যে বলেছিলেন, আমার বাবা কোর্ট মোড়ে লন্ড্রির কাজ করেন। তিনি আমাদের দেখতে পারতেন না। আমাদের ভরন-পোষন দিতেন না। ন’মাস আগে আমার মা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। মাঝে মধ্যে এখানে আসতেন। সোমবার সন্ধায় আমার মা বাড়িতে আসেন। রাতের খাবার খেয়ে আমি আর মা দরজা বন্ধ করে শুয়ে পরেছিলাম। এ সময় আমার বাবা দরজা খুলতে বলেন। আমি দরজা খুলতেই বাবা ঘরে প্রবেশ করে মায়ের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে রড দিয়ে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। আমার মা খাটের উপর পড়ে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেছিলেন, আমার মায়ের নীথর দেহ খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে আমি আমার বাবার উপর রুখে যায়। এসময় বাবা আমার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাবা পালিয়ে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জান্নাতুলকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে জান্নাতুল ফেনদৌস সুস্থ আছে। সে তার মায়ের হত্যার বিচার চাই।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গায় কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রচেষ্টায় হত্যাকারীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। আনোয়ার হোসেন নামের হত্যাকারীকে পুলিশ দ্রুতই গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় আসামীকে দ্রুত আটক ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়ায় সাদিয়া সুলতানা ওরফে নয়নতারাকে (৩৫) হত্যা করে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নয়নতারার মা মাছুরা খাতুন বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামালা দায়ের করেন। মামলার কয়েকদিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত আসামী আনোয়ার হোসেনকে আটক করতে পারে নি পুলিশ। নিহত সাদিয়া সুলতানা ওরফে নয়নতারা মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জতারপুর গ্রামের আনছার আলীর মেয়ে।

এদিকে, ঘাতক আনোয়ার হোসেনের দ্রুত আটক ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন শেষে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে নয়নতারার পরিবার ও তার গ্রামের লোকজন। ০৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে, বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের নিকট স্বারকলিপি পেশ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নয়নতারার চাচাতো ভাই ওসমান গনি, প্রতিবেশি চাচা আব্দুল মান্নান, নয়নতারার মেয়ে ৮শ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস টুনি ও একমাত্র ছেলে সাতবছর বয়সি জিহাদ হাসান মেহেদী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খুনি আনোয়ার হোসেনকে অবিলম্বে আটক করে দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসির কার্যকর করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, আমরা জানি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যাক্তি। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া কলোনীপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে সাদিয়া সুলতানাকে হত্যা করে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০ টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে মাথায় উপর্যূপরি রড দিয়ে আঘাত তরে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী আনোয়ার হোসেন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের একমাত্র মেয়ে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস টুনিকে (১৬) রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে তার বাবা। আহত টুনিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
তাদের একমাত্র মেয়ে আহত জান্নাতুল ফেরদৌস টুনি ঘটনার দিন তার বক্তব্যে বলেছিলেন, আমার বাবা কোর্ট মোড়ে লন্ড্রির কাজ করেন। তিনি আমাদের দেখতে পারতেন না। আমাদের ভরন-পোষন দিতেন না। ন’মাস আগে আমার মা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। মাঝে মধ্যে এখানে আসতেন। সোমবার সন্ধায় আমার মা বাড়িতে আসেন। রাতের খাবার খেয়ে আমি আর মা দরজা বন্ধ করে শুয়ে পরেছিলাম। এ সময় আমার বাবা দরজা খুলতে বলেন। আমি দরজা খুলতেই বাবা ঘরে প্রবেশ করে মায়ের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে রড দিয়ে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। আমার মা খাটের উপর পড়ে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেছিলেন, আমার মায়ের নীথর দেহ খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে আমি আমার বাবার উপর রুখে যায়। এসময় বাবা আমার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাবা পালিয়ে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জান্নাতুলকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে জান্নাতুল ফেনদৌস সুস্থ আছে। সে তার মায়ের হত্যার বিচার চাই।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গায় কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রচেষ্টায় হত্যাকারীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। আনোয়ার হোসেন নামের হত্যাকারীকে পুলিশ দ্রুতই গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।