
উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গা ৯ আনসার ব্যাটালিয়নের সুবর্ণজয়ন্তী তথা ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ব্যাটালিয়ন সদরে দিনব্যাপী গৌরবোজ্জ্বল এই হাফ সেঞ্চুরি উৎসব স্মরণীয় করে রাখতে নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ডিঙ্গেদহ আনসার ব্যাটালিয়ন সদরকে সাজানো হয়েছিল এক অপরূপ সাজে।
দিবসটি উপলক্ষে ফজরের নামাজ পর ইউনিট ও বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় ও ইউনিট পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এবারের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদ, বিভিএম, পিভিএমএস।সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে ফুলের শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাটালিয়নের সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়। দরবারে প্রধান অতিথি বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানান।
ডিঙ্গেদহ আনসার ব্যাটালিয়ন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। এই ঐতিহাসিক সুবর্ণজয়ন্তী আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের।
বেলা সাড়ে ১১টায় সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দকে ভাগাভাগি করতে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড্ডয়ন করা হয়। এরপর দুপুরে আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং ব্যাটালিয়নের সকল স্তরের সদস্যদের অংশগ্রহণে কেক কাটা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।প্রীতিভোজ শেষে প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যে স্থানেই হোক না কেন, দেশের স্বার্থে পালন করতে হবে। ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়বো, এটাই আমাদের প্রত্যয়।
চুয়াডাঙ্গা আনসার ব্যাটালিয়ন (৯ বিএন)-এর পরিচালক মোঃ সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অনুষ্ঠানে আরো অতিথি ছিলেন উপ-পরিচালক খাদেমুল ইসলাম, কোম্পানি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ, মেহেরপুর জেলা কমান্ডেন্ট আলামিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।বিকালে ব্যাটালিয়ন সদস্যদের উপস্থিতিতে এক মনোজ্ঞ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর শুরু হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্যে মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা। রাতে আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল ও ঐতিহাসিক উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
বিশেষ প্রতিনিধি 









