০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা পুরাতন হাসপাতালপাড়ার সোহেল রানাকে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কোর্ট মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত- সোহেল রানা (৪০) চুয়াডাঙ্গা পুরাতন হাসপতালপাড়ার জামাত আলীর ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়ার নুরুজ্জামান নামে একজন ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করছেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে গ্রেফতারকৃত সোহেল রনাসহ ১০ থেকে ১২ জনের একদল চাঁদাবাজ চক্র তার নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা ৬ গাড়ি ইট ও ২ টন রড এবং ৩০ সেফটি কাঠ জোরপূর্বক নিয়ে যায় এবং হুমকি দিয়ে যায়। বিষয়টি যদি নুরুজ্জামান তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জানায় তাহলে তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে চাঁদাবাজ চক্রটি।

গত ৬ জানুয়ারি আবারও জোর করে ২ হাজার ইট নিয়ে যায় ওই চাঁদাবাজ চক্রটি। পরে ভয় পেয়ে নুরুজ্জামান বাড়ি করার বাকি ৬০ হাজার ইট অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ইট ট্রাকযোগে সারানোর সময় সোহেল রনাসহ কয়েকজন বাধা দিয়ে বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ইট সরাতে দেবে না তারা। পরে বিষয়টি নুরুজ্জামান পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে সদর থানার এসআই বাবুল খানসহ সঙ্গীয় ফোর্স কোটমোড় এলাকার ঘটনাস্থল থেকে সোহেল রানাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই নুরুজ্জামানের স্ত্রী আরিফা পারভীন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঁদাবাজির ঘটনায় সোহেল রানার নামে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সদর থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুজ্জাামানের স্ত্রী আরিফা পারভিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ আছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে আগামীকাল (আজ বুধবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি বলেন, শুনেছি ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদাক সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কি কারণে তাকে আটক করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখন জানতে পারেননি তিনি।

সিরাজুল ইসলাম মনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোন কাজে যদি সে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, চুয়াডাঙ্গাতে কোনো বিএনপি নেতা-কর্মী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বা দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কোনো ধরণের অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ড করেন তাহলে তার দায় নেবে না দল। তাকে দল থেতে বহিস্কার করাসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এখন আলোচনায়

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নব নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ গঠন

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা পুরাতন হাসপাতালপাড়ার সোহেল রানাকে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কোর্ট মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত- সোহেল রানা (৪০) চুয়াডাঙ্গা পুরাতন হাসপতালপাড়ার জামাত আলীর ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়ার নুরুজ্জামান নামে একজন ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করছেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে গ্রেফতারকৃত সোহেল রনাসহ ১০ থেকে ১২ জনের একদল চাঁদাবাজ চক্র তার নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা ৬ গাড়ি ইট ও ২ টন রড এবং ৩০ সেফটি কাঠ জোরপূর্বক নিয়ে যায় এবং হুমকি দিয়ে যায়। বিষয়টি যদি নুরুজ্জামান তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জানায় তাহলে তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে চাঁদাবাজ চক্রটি।

গত ৬ জানুয়ারি আবারও জোর করে ২ হাজার ইট নিয়ে যায় ওই চাঁদাবাজ চক্রটি। পরে ভয় পেয়ে নুরুজ্জামান বাড়ি করার বাকি ৬০ হাজার ইট অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ইট ট্রাকযোগে সারানোর সময় সোহেল রনাসহ কয়েকজন বাধা দিয়ে বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ইট সরাতে দেবে না তারা। পরে বিষয়টি নুরুজ্জামান পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে সদর থানার এসআই বাবুল খানসহ সঙ্গীয় ফোর্স কোটমোড় এলাকার ঘটনাস্থল থেকে সোহেল রানাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই নুরুজ্জামানের স্ত্রী আরিফা পারভীন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঁদাবাজির ঘটনায় সোহেল রানার নামে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সদর থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুজ্জাামানের স্ত্রী আরিফা পারভিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ আছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে আগামীকাল (আজ বুধবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি বলেন, শুনেছি ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদাক সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কি কারণে তাকে আটক করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখন জানতে পারেননি তিনি।

সিরাজুল ইসলাম মনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোন কাজে যদি সে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, চুয়াডাঙ্গাতে কোনো বিএনপি নেতা-কর্মী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বা দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কোনো ধরণের অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ড করেন তাহলে তার দায় নেবে না দল। তাকে দল থেতে বহিস্কার করাসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।