০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাতাসের গতিবেগ আর সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে

পৌষের শেষ ভাগে এসে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত চুয়াডাঙ্গা

ছবি: সংগৃহিত

আলু ক্ষেত ও ধানের বীজতলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা কৃষি বিভাগের


বছরের শুরু ও পৌষের শেষ ভাগে এসে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত রয়েছে গোটা চুয়াডাঙ্গা জেলা। সন্ধ্যা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির পানির মতো ঝরছে শিশির। ফলে জনজীবনে স্থবিরতা বিরাজ করছে।  রাত থেকে কুয়াশাচ্ছন্ন এ জেলা। শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও শীতল বাতাসে জনজীবন থমকে গেছে। জেলায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের কারণে কর্মজীবন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বিগত নভেম্বর হতেই এ জেলায় তাপমাত্রা কমতে থাকে। গত ১৯ দিনে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রীর ব্যবধানে ওঠানামা করছিলো।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রবিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন- শৈত্যপ্রবাহ কেটেছে। তামপাত্রাও খানিকটা বেড়েছে। কিন্তু বাতাসের গতিবেগ আর সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এরই মধ্যে তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। এরপর ১০ জানুয়ারি থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।

এদিকে, আলু ক্ষেত ও ধানের বীজতলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেলার কৃষি বিভাগে। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ধানের বীজতলা বিকেলে সেচ দিয়ে পরের দিন সকালে পানি বের করে দিতে হবে। এছাড়া সকালে চারার ওপর থেকে শিশির সরিয়ে দেওয়া, সম্ভব হলে রাতে ঢেকে দিতে হবে। বীজতলা চাল হলে জিপসাম ও ইউরিয়া সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আলু ক্ষেতে আগামধসা ও নাবিধসা ছত্রাক যাতে না লাগে, সে জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে শীত নিবারণের চেষ্টায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে কাজের সন্ধানে আসা মানিক নামের এক শ্রমিক জানান, এতো ঠান্ডায়ও ভোরে কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। এখনো কাজ পায়নি। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। বাতাসের কারণে আরো বেশি শীত লাগছে। ঘর থেকে বের হবার দায় নেই। কিন্তু পেটের দায়ে কাজের জন্য বের হতে হচ্ছে।

মিজানুর রহমান নামে আপর শ্রমিক জানান, একদিন কাজে না আসলে বাড়িতে চুলা জ্বলবে না। বাধ্য হয়েই এই তীব্র শীতের ভোরে কাজে এসেছি।

উজিরপুর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক আব্দুস শুকুর বলেন, আজ দুদিন ধরে কাজ পাচ্ছি না। প্রতিদিনই কাজের সন্ধানে বাইরে আসছি কিন্তু কাজ না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। যেভাবে বাতাস বইছে তাতে কাজ করাও কঠিন। আবার কাজ না করলেও পেট চালানো দায়।

আলুকদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক মোমরেজ আলী বলেন, এই শীতের একদিন ইচ্ছা করেই কাজে বের হয়নি। অন্যদিন বের হলেও ভাড়া হচ্ছে না। রাস্তাঘাটে তেমন যাত্রী নেই। সকাল আর সন্ধ্যায় তো লোকজন একদমই কম। সূর্য উঠলে কিছু মানুষ বাইরে বের হয়, আর সূর্য না উঠলে তেমন কেউ বের হয় না। অলস সময় কাটছে সবার।

চুয়াডাঙ্গায় আরো কিছুদিন তাপমাত্রা নিম্ন পর্যায়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।

এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

বাতাসের গতিবেগ আর সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে

পৌষের শেষ ভাগে এসে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত চুয়াডাঙ্গা

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫

আলু ক্ষেত ও ধানের বীজতলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা কৃষি বিভাগের


বছরের শুরু ও পৌষের শেষ ভাগে এসে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত রয়েছে গোটা চুয়াডাঙ্গা জেলা। সন্ধ্যা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির পানির মতো ঝরছে শিশির। ফলে জনজীবনে স্থবিরতা বিরাজ করছে।  রাত থেকে কুয়াশাচ্ছন্ন এ জেলা। শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও শীতল বাতাসে জনজীবন থমকে গেছে। জেলায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের কারণে কর্মজীবন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বিগত নভেম্বর হতেই এ জেলায় তাপমাত্রা কমতে থাকে। গত ১৯ দিনে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রীর ব্যবধানে ওঠানামা করছিলো।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রবিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন- শৈত্যপ্রবাহ কেটেছে। তামপাত্রাও খানিকটা বেড়েছে। কিন্তু বাতাসের গতিবেগ আর সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এরই মধ্যে তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। এরপর ১০ জানুয়ারি থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।

এদিকে, আলু ক্ষেত ও ধানের বীজতলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেলার কৃষি বিভাগে। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ধানের বীজতলা বিকেলে সেচ দিয়ে পরের দিন সকালে পানি বের করে দিতে হবে। এছাড়া সকালে চারার ওপর থেকে শিশির সরিয়ে দেওয়া, সম্ভব হলে রাতে ঢেকে দিতে হবে। বীজতলা চাল হলে জিপসাম ও ইউরিয়া সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আলু ক্ষেতে আগামধসা ও নাবিধসা ছত্রাক যাতে না লাগে, সে জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে শীত নিবারণের চেষ্টায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে কাজের সন্ধানে আসা মানিক নামের এক শ্রমিক জানান, এতো ঠান্ডায়ও ভোরে কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। এখনো কাজ পায়নি। প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। বাতাসের কারণে আরো বেশি শীত লাগছে। ঘর থেকে বের হবার দায় নেই। কিন্তু পেটের দায়ে কাজের জন্য বের হতে হচ্ছে।

মিজানুর রহমান নামে আপর শ্রমিক জানান, একদিন কাজে না আসলে বাড়িতে চুলা জ্বলবে না। বাধ্য হয়েই এই তীব্র শীতের ভোরে কাজে এসেছি।

উজিরপুর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক আব্দুস শুকুর বলেন, আজ দুদিন ধরে কাজ পাচ্ছি না। প্রতিদিনই কাজের সন্ধানে বাইরে আসছি কিন্তু কাজ না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। যেভাবে বাতাস বইছে তাতে কাজ করাও কঠিন। আবার কাজ না করলেও পেট চালানো দায়।

আলুকদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক মোমরেজ আলী বলেন, এই শীতের একদিন ইচ্ছা করেই কাজে বের হয়নি। অন্যদিন বের হলেও ভাড়া হচ্ছে না। রাস্তাঘাটে তেমন যাত্রী নেই। সকাল আর সন্ধ্যায় তো লোকজন একদমই কম। সূর্য উঠলে কিছু মানুষ বাইরে বের হয়, আর সূর্য না উঠলে তেমন কেউ বের হয় না। অলস সময় কাটছে সবার।

চুয়াডাঙ্গায় আরো কিছুদিন তাপমাত্রা নিম্ন পর্যায়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।