
‘রাজস্ব বেশী যেখানে, ট্রেন থামবে সেখানে’ স্লোগান সামনে রেখে দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে খুলনা টু ঢাকা গামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস আপ এবং একই রুটে চলাচলকারী চিত্রা এক্সপ্রেস ডাউন ট্রেনের স্টপেজের দাবীতে রেলপথ অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা। রবিবার বেলা ১২টার দিকে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রেলপথ অবরোধ প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী চলে।
এ সময় দুপুর পৌনে ২টায় দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দর্শনা হল্ট স্টেশনে প্রবেশ করলে উপস্থিত ছাত্র জনতা ট্রেনটি আটকে দেয়। অপরদিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি দর্শনার পূর্বের স্টেশন উথলীত আটকা পড়ে যায়। এর ফলে খুলনা থেকে ঢাকা ও রাজশাহী গামী এবং রাজশাহী ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারনযাত্রীরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দর্শনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তানভির আহম্মেদ অনিক ও আবিদ হাসান রিফাত জানান, ‘দর্শনা একটি শিল্প ও সীমান্ত শহর’, যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও রেলবন্দর রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় জেলার মানুষ এখানে চাকুরির সুবাদে বসবাস করে থাকেন। কিন্ত দর্শনা হল্ট স্টেশনে রাতে ঢাকা-খুলনাগামী আপ সুন্দরবন ও ঢাকা-খুলনাগামী ডাউন চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ না থাকার কারণে আমরা দর্শনাবাসীর সাথে নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আমাদের আকাঙ্খিত ট্রেন দু’টি এখনো দর্শনা হল্ট স্টেশনে থামানোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সে কারণে আজকে আমরা ছাত্র-জনতা এলাকাবাসিকে সাথে নিয়ে আবারও রেলপথ অবরোধ করেছি। সেই হিসাবে আজ (রবিবার) দুপুর বারোটা থেকে দর্শনা হল্ট স্টেশনে কয়েক শত ছাত্র-জনতা অবস্থান নিয়েছে। আমাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের এই অবরোধ কার্যক্রম চলবে।
এ সময় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ মহল, সহকারি কমিশনার ভূমি ও দর্শনা পৌর প্রশাসক তাসফিকুর রহমান সহ ছাত্র জনতার প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিম জোনের পাকসী বিভাগের ডিভিশনাল ট্রাফিক অফিসার (ডিটিও) মোছা: হাছিনা বেগম জানান, ‘আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে স্টপেজ দেয়ার নিয়ম নেই, দর্শনার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। রাজশাহী ও ঢাকার উর্ধ্বতন রেল কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর বিকেল ৪টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ মহল ও চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপটেন জাহাঙ্গীর হোসেনের সমঝোতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও স্থানীয় জনগণ অবরোধ তুলে নেন।’
আগমাী ১০ দিনের মধ্যে উল্লেখিত ট্রেন দুটির যাত্রা বিরতি দেয়া না হলে কঠোর কর্মসুচির ঘোষনা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ দর্শনা হল্ট স্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে থাকেন।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা 




















