০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলন

এদেশে আর মাইনোরিটি-মেজরিটি শুনতে চাই না : জামায়াত আমির

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৯৬ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে আর কোনো মাইনোরিটি-মেজরিটি শুনতে চাই না। কিসের মেজরিটি আর কিসেরই-বা মাইনরিটি? বাংলাদেশে যারাই জন্মগ্রহণ করবে তারা সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই দেশের গর্বিত মর্যাদাবান নাগরিক। এই দেশে সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে কোথাও বাধার সম্মুখীন হবে না। ইসলাম ধর্ম কারও ওপর জোর করে চাপানো যাবে না।

আজ শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার ও তার আত্মীয় স্বজনরা মিলে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ব্যাংকের টাকা লোপাট করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছে। মানবিক দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেমন জীবন দিয়ে জাতিকে আরেকটি স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমরা প্রয়োজনে জীবন দিয়ে তাদের সমস্ত দাবি পূরণ করব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আপামর জনগণের জনপ্রিয় ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস করেছে শেখ হাসিনার পরিবার। ডাকাত এস আলমকে লেলিয়ে দিয়ে পরিবার মিলে টাকা লোপাট করেছে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে নিজ দলের ঠিকাদার নিয়োগ করে আমি আর মামু মিলে দেশটাকে পুটলা করেছে হাসিনা পরিবার।

এসময় দুর্নীতির দায়ে শেখ হাসিনার বোনের মেয়ের বিরুদ্ধে লন্ডনে দুর্নীতি দমন কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।

দেশবাসীর কাছে চারটা অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণের লড়াইয়ে আমাদেরকে আপনারা দেখবেন। আমরা আপনাদের ভালবাসার কাঙাল। আমরা আপনাদের দোয়া চাই, সাহায্য ও সমর্থন চাই। এ লড়াইয়ে আপনাদেরকে পাশে চাই। এ লড়াইয়ে আপনাদের বুকের বিছানায় একটু জায়গায় চাই এবং সাংবাদিক বন্ধুদের এ লড়াইয়ের অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, এমন একটা দেশ কি আপনারা চান যে সমাজে চাঁদাবাজি থাকবে না, যে সমাজে ঘুষখোর থাকবে না, যে সমাজে দখল বাণিজ্য চলবে না, মানুষে মানুষে কোন বৈষম্য হবে না, যে সমাজে ধর্মে ধর্মে কোন বৈষম্য হবে না। তার জন্য লড়াই করতে হবে। আরও অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আল্লাহর আইন সমস্ত মানুষের জন্য। শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। আমরা সেই আইনের জন্য লড়াই করছি। এখন কেউ আমাদেরকে যা বলতে চায় বলুক। এ জায়গায় কোন আপস নেই। আমরা আমাদের ছাত্রসমাজকে কথা দিচ্ছি। এমন শিক্ষা তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে যাতে একটা বেহুদা কাগজের টুকরা সার্টিফিকেট নিয়ে এই দুয়ারে ওই দুয়ারে আর দৌড়াদৌড়ি করা লাগবে না। তোমাদের শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কাগজের টুকরা আর তোমাদের ন্যায্য পাওনা বা কাজ তোমাদের হাতে উঠে যাবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল সুজাউদ্দিনের জোয়াদ্দারের সঞ্চালনায় জামায়েতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেনসহ বেশ কয়েকটি জেলার শীর্ষ জামায়াত নেতারা বক্তব্য দেন।

কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলন

এদেশে আর মাইনোরিটি-মেজরিটি শুনতে চাই না : জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১০:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে আর কোনো মাইনোরিটি-মেজরিটি শুনতে চাই না। কিসের মেজরিটি আর কিসেরই-বা মাইনরিটি? বাংলাদেশে যারাই জন্মগ্রহণ করবে তারা সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই দেশের গর্বিত মর্যাদাবান নাগরিক। এই দেশে সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে কোথাও বাধার সম্মুখীন হবে না। ইসলাম ধর্ম কারও ওপর জোর করে চাপানো যাবে না।

আজ শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার ও তার আত্মীয় স্বজনরা মিলে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ব্যাংকের টাকা লোপাট করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছে। মানবিক দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেমন জীবন দিয়ে জাতিকে আরেকটি স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমরা প্রয়োজনে জীবন দিয়ে তাদের সমস্ত দাবি পূরণ করব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আপামর জনগণের জনপ্রিয় ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস করেছে শেখ হাসিনার পরিবার। ডাকাত এস আলমকে লেলিয়ে দিয়ে পরিবার মিলে টাকা লোপাট করেছে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে নিজ দলের ঠিকাদার নিয়োগ করে আমি আর মামু মিলে দেশটাকে পুটলা করেছে হাসিনা পরিবার।

এসময় দুর্নীতির দায়ে শেখ হাসিনার বোনের মেয়ের বিরুদ্ধে লন্ডনে দুর্নীতি দমন কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।

দেশবাসীর কাছে চারটা অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণের লড়াইয়ে আমাদেরকে আপনারা দেখবেন। আমরা আপনাদের ভালবাসার কাঙাল। আমরা আপনাদের দোয়া চাই, সাহায্য ও সমর্থন চাই। এ লড়াইয়ে আপনাদেরকে পাশে চাই। এ লড়াইয়ে আপনাদের বুকের বিছানায় একটু জায়গায় চাই এবং সাংবাদিক বন্ধুদের এ লড়াইয়ের অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, এমন একটা দেশ কি আপনারা চান যে সমাজে চাঁদাবাজি থাকবে না, যে সমাজে ঘুষখোর থাকবে না, যে সমাজে দখল বাণিজ্য চলবে না, মানুষে মানুষে কোন বৈষম্য হবে না, যে সমাজে ধর্মে ধর্মে কোন বৈষম্য হবে না। তার জন্য লড়াই করতে হবে। আরও অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আল্লাহর আইন সমস্ত মানুষের জন্য। শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। আমরা সেই আইনের জন্য লড়াই করছি। এখন কেউ আমাদেরকে যা বলতে চায় বলুক। এ জায়গায় কোন আপস নেই। আমরা আমাদের ছাত্রসমাজকে কথা দিচ্ছি। এমন শিক্ষা তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে যাতে একটা বেহুদা কাগজের টুকরা সার্টিফিকেট নিয়ে এই দুয়ারে ওই দুয়ারে আর দৌড়াদৌড়ি করা লাগবে না। তোমাদের শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কাগজের টুকরা আর তোমাদের ন্যায্য পাওনা বা কাজ তোমাদের হাতে উঠে যাবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল সুজাউদ্দিনের জোয়াদ্দারের সঞ্চালনায় জামায়েতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেনসহ বেশ কয়েকটি জেলার শীর্ষ জামায়াত নেতারা বক্তব্য দেন।

কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।