০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাংনীতে ভূমিহীন প্রতিবন্ধী দম্পতির মানবেতর জীবন-যাপন

মেহেরপুরের গাংনীতে অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন আমিরুল ইসলাম ও শিউলী খাতুন নামের এক প্রতিবন্ধী দম্পতি। দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবন্ধী এই দম্পতি গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়াতে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। যদিও ইতিমধ্যেই মেহেরপুর জেলাকে ভূমিহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বার বার বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিয়েও কারো মবে এতটুকু দয়া হয়নি এই ভূমিহীন অসহায় প্রতিবন্ধী দম্পতির জন্য। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওনাদার হয়েও মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন দম্পতিটি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও মৃত্যুর আগে তাদের মাথা গোঁজার একটু জায়গার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা ভেবেই তিনাদের কষ্ট।

সোমবার (০৮ জুলাই) সকালের দিকে সরেজমিনে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাদের দুরবস্থার দেখে মিলে। জানা যায়, প্রতিবন্ধী আমিরুল তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে দো-চালা মরিচা পড়া টিনের জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছেন। ঘরে রয়েছে একটি নড়বড়ে শয়নের চৌকি, মাটির চুলা, হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, মরচেধরা একটি বাক্স, একটি র‌্যাক, আর দড়িতে ঝুলানো কিছু কাপড়-চোপড়। নিঃসন্তান নাকি এই দম্পতিটি।

প্রতিবেশীরা জানান, তারা খুবই কষ্টে রয়েছে। তাদের না আছে কোনো ফসলি জমি না আছে বাড়ির জমি। আর পাঁচজনের মতো স্বাভাবিকভাবপ কাজ করার সক্ষমতাও নেই প্রতিবন্ধী আমিরুলের। নিঃসন্তান আমিরুল কে দেখার মতো কেউ নেই, বাবা, মা মারা গেছে অনেক আগেই। প্রতিবন্ধী আমিরুল মাঠে অন্যের ভেড়া চরিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়। তাদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি কোন সহায়তা চোখে পড়েনি। তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে শান্তিতে রাত পার করতে পারবে। সরকার কতজনকে সুযোগ-সুবিধা দিলেও বঞ্চিত রয়েছে এই দম্পতিটি। খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত করলেও বসবাসের ঘরটি অনুপযোগী। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহাকে ফোন করা হলে, তিনি বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবে বলে জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

গাংনীতে ভূমিহীন প্রতিবন্ধী দম্পতির মানবেতর জীবন-যাপন

আপডেট সময় : ০১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

মেহেরপুরের গাংনীতে অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন আমিরুল ইসলাম ও শিউলী খাতুন নামের এক প্রতিবন্ধী দম্পতি। দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবন্ধী এই দম্পতি গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়াতে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। যদিও ইতিমধ্যেই মেহেরপুর জেলাকে ভূমিহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বার বার বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিয়েও কারো মবে এতটুকু দয়া হয়নি এই ভূমিহীন অসহায় প্রতিবন্ধী দম্পতির জন্য। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওনাদার হয়েও মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন দম্পতিটি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও মৃত্যুর আগে তাদের মাথা গোঁজার একটু জায়গার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা ভেবেই তিনাদের কষ্ট।

সোমবার (০৮ জুলাই) সকালের দিকে সরেজমিনে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাদের দুরবস্থার দেখে মিলে। জানা যায়, প্রতিবন্ধী আমিরুল তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের জমিতে দো-চালা মরিচা পড়া টিনের জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছেন। ঘরে রয়েছে একটি নড়বড়ে শয়নের চৌকি, মাটির চুলা, হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, মরচেধরা একটি বাক্স, একটি র‌্যাক, আর দড়িতে ঝুলানো কিছু কাপড়-চোপড়। নিঃসন্তান নাকি এই দম্পতিটি।

প্রতিবেশীরা জানান, তারা খুবই কষ্টে রয়েছে। তাদের না আছে কোনো ফসলি জমি না আছে বাড়ির জমি। আর পাঁচজনের মতো স্বাভাবিকভাবপ কাজ করার সক্ষমতাও নেই প্রতিবন্ধী আমিরুলের। নিঃসন্তান আমিরুল কে দেখার মতো কেউ নেই, বাবা, মা মারা গেছে অনেক আগেই। প্রতিবন্ধী আমিরুল মাঠে অন্যের ভেড়া চরিয়ে কোন রকমে সংসার চালায়। তাদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি কোন সহায়তা চোখে পড়েনি। তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে শান্তিতে রাত পার করতে পারবে। সরকার কতজনকে সুযোগ-সুবিধা দিলেও বঞ্চিত রয়েছে এই দম্পতিটি। খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত করলেও বসবাসের ঘরটি অনুপযোগী। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহাকে ফোন করা হলে, তিনি বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবে বলে জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস দেন।