আপডেট সময় :
০১:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩
১৪৭
Time View
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মনজুরা খাতুন নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার ভাই আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দেশী অস্ত্র। বোনকে পরকীয়া থেকে সরিয়ে আনতে তাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আলমগীর। ২৩ অক্টোবর সোমবার বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়ীতে বসবাস করতেন মনজুরা খাতুন। এক পর্যায়ে খালাতো বোনের স্বামীর সাথে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরকিয়া করতে নিষেধ করায় ভাই আলমগীরের সাথে তার প্রায়ই বিবাদ হতো। গত শনিবার রাতে একই বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য মনজুরা খাতুনকে কৌশলে বাড়ির পাশের এক আম বাগানে ডেকে নিয়ে যান আলমগীর। সেখানে তাদের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মনজুরা খাতুনকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আলমগীর। এসময় মনজুরা খাতুনের দেহটি পাশের একটি বেগুন ক্ষেতে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজেকে জখম করেন তিনি। তারপর আমগাছে থাকা দঁড়ি নিয়ে নিজেই নিজের হাত-পা বেঁধে চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করলে অপহরণের নাটক সাজিয়ে বিভ্রান্ত করেন আলমগীর।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ জানান, ওই ঘটনায় সোমবার সকালে বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহত মনজুরা খাতুনের স্বামী সুরুজ আলী। পরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় নিহতের ভাই আলমগীর হোসেনকে। গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আলমগীর।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা জামা কাপড় আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে এবং জবানবদী দেয়ার পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতপরশু রোববার সকালে দর্শনার মোহাম্মদপুর গ্রামের মাঠ থেকে মনজুরা খাতুন নামে এক নারীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।