আপডেট সময় :
০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩
১৩৫
Time View
চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি,জে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর খাতা কেড়ে নেন পরীক্ষক শিক্ষক হাফজুর রহমান। এঘটনায় ওই ছাত্র বেঞ্চ থেকে উঠে এসে শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারে। (০৮ সেপ্টেম্বর) রবিবার ঘটে এ ঘটনা। ওই রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্কুলের সিসিটিভির ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তারকে। তিন কার্যদিবসের মধ্য কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টায় বাণিজ্য বিভাগের হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা শুরু হয়। বিদ্যালয়টির ১১২নং কক্ষে পরীক্ষার হলের দায়িত্বে ছিলেন দিবা শিফটের বাংলা সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা ১১ মিনিটের সময় বিদ্যালয়টির প্রভাতি শাখার দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র সাইফুল আমিন শীর্ষ অন্যদের কাছ থেকে দেখে লিখছিল। প্রথমে ওই ছাত্রকে নির্ধারিত আসন থেকে সরিয়ে সামনের একটি বেঞ্চে বসিয়ে দেন। পরে, আবারও পেছনে ঘুরে অন্যের খাতা দেখে লেখছিল ওই ছাত্র। এক পর্যায়ে পেছনের বেঞ্চে দুই হাত দিয়ে বসে ছিল শীর্ষ।
বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষকের নজরে এলে তিনি ছাত্রের খাতা কেড়ে নিয়ে যান। এ নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ধাক্কা দিয়ে ছাত্রকে বেঞ্চে বসতে বলেন শিক্ষক। কিছু সময় পর সাইফুল বেঞ্চ থেকে উঠে এসে শিক্ষকের দুই গালে থাপ্পড় মারে। পরে ওই শিক্ষক শীর্ষকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে চলে যান। এ সময় সাইফুল আমিন শীর্ষও বাইরে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমাকে জানান। তিনি এ ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সদর সার্কেলর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুজ্জামান লালন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা আছে।
স্থানীয় ও সাবেক ছাত্ররা জানান, তারাও এ স্কুলে পড়াশোনা করেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে কখনো তারা বেয়াদবি করে নি। এটি একটি জঘন্যতম ঘটনা। ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শাস্তি ছাড়া কোনো সমাধান নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, ক্লাসে যাওয়ার মতো পরিবেশ চান তারা। ছাত্র এমন আচরণ করবে তা তারা কখনো ভাবেন নি। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদর থানায়। অভিযোগটি ক্রটিপূর্ণ থাকায় সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষকের বক্তব্য এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষা চলাকালীন ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানছিল না। যে কারণে শিক্ষক তার খাতাটি নিয়ে নেন এবং বসতে বলেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের পরামর্শে আমরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর আমরা অভিযোগ দিয়েছি।’ বিষয়টি আমরা ওই ছাত্রের অভিভাবক এবং জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি পাশে থাকবেন।
জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্য প্রতিবেদন দেবে কমিটি। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাডেমিক বিষয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থা নেবে। দায়ী ব্যক্তিকে চিহিৃত, পরবর্তী করণীয় ও বিষয়গুলো যেভাবে উঠে আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।