
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। মোটরসাইকেল থেকে ওই তরুণীকে ফেলে যাওয়ার চারদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালের নথিপত্রে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। তরুণীর মৃত্যুর কারণ লেখা আছে মাথায় আঘাত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে ওই তরুণীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩ টায় ওই তরুণী মারা যান।
নিহত তরুণীর ভাই জানান, একই এলাকার আবু বক্কর আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়েছিল। চারমাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মৃত্যুর পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আবু বক্কর আলীকে আটক করেছে।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেল নামের এক যুবক গোলাপনগর গ্রাম থেকে তার বোনকে মোটরসাইকেলে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে বকশীপাড়া গ্রামে অচেতন অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। খবর পেয়ে তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তরুণীর ভাই জানান, তার বোনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া রাসেল আবু বক্কর আলীর বন্ধু। তিনি তার বোনের মোবাইল ফোন দেখেছেন ঘটনার দিন বিকেলে মোট ৯ বার ফোন করেছিলেন রাসেল। ঘটনার পর থেকে রাসেল পলাতক।
তিনি দাবি করেন, তার বোন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে হাসপাতালে শুধু মাথায় আঘাতের চিকিৎসা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে তারা এই পরীক্ষা করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপনরাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, এই ওয়ার্ডে ধর্ষণের পরীক্ষা করার উপায় নেই। ওয়ার্ড বদলে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) দিতে হবে। সেখানে পরীক্ষা হবে। তবে সেখানে নেয়ার আগেই তরুণীর মৃত্যু হয়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন।
ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি বলছেন। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। পুলিশের প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তমার সাবেক স্বামী আবু বক্কর আলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি কোন স্বীকারোক্তি দেননি। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে মামলা করা হবে তা গ্রহণ কর হবে।
শান্ত হোসেন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 









