০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড নিতে এসে একজনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সরকারি সেবার কার্ড সংগ্রহ করতে এসে প্রাণ হারালেন বখতিয়ার উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কার্ড নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। নিহত বখতিয়ার উপজেলার ভেদামারি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড বিতরণের আজ ছিল শেষ দিন। ফলে কার্ড সংগ্রহ করতে সকাল থেকেই আলমডাঙ্গা উপজেলা মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত মানুষ।

বখতিয়ার উদ্দিনও কার্ড পাওয়ার আশায় সকাল ৯টার দিকে মাঠে উপস্থিত হন।
লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় হঠাৎ তীব্র গরমে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ আলমডাঙ্গা ফাতেমা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বখতিয়ারের মৃত্যুর খবর তার নিজ গ্রাম ভেদামারি পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। পরিবারের সদস্যরা জানান, কার্ডটি সংগ্রহ করতে তিনি বেশ উৎসাহ নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, কিন্তু সেই কার্ড আর তার হাতে পৌঁছানো হলো না।

ঘটনার বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার গণমাধ্যমকে জানান:
“মৃত ব্যক্তিটি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আজ সকালে উপজেলা মাঠে প্রচণ্ড ভিড় ও গরমের মধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তাকে ক্লিনিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।”

এদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কার্ড বিতরণের পর্যাপ্ত বুথ না থাকায় এবং প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল।স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরণের সেবামূলক কাজে আরও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বখতিয়ারের এই অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে কোনো বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :
এখন আলোচনায়

আলমডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড নিতে এসে একজনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সরকারি সেবার কার্ড সংগ্রহ করতে এসে প্রাণ হারালেন বখতিয়ার উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কার্ড নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। নিহত বখতিয়ার উপজেলার ভেদামারি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড বিতরণের আজ ছিল শেষ দিন। ফলে কার্ড সংগ্রহ করতে সকাল থেকেই আলমডাঙ্গা উপজেলা মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত মানুষ।

বখতিয়ার উদ্দিনও কার্ড পাওয়ার আশায় সকাল ৯টার দিকে মাঠে উপস্থিত হন।
লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় হঠাৎ তীব্র গরমে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ আলমডাঙ্গা ফাতেমা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বখতিয়ারের মৃত্যুর খবর তার নিজ গ্রাম ভেদামারি পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস। পরিবারের সদস্যরা জানান, কার্ডটি সংগ্রহ করতে তিনি বেশ উৎসাহ নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, কিন্তু সেই কার্ড আর তার হাতে পৌঁছানো হলো না।

ঘটনার বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার গণমাধ্যমকে জানান:
“মৃত ব্যক্তিটি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আজ সকালে উপজেলা মাঠে প্রচণ্ড ভিড় ও গরমের মধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তাকে ক্লিনিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।”

এদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কার্ড বিতরণের পর্যাপ্ত বুথ না থাকায় এবং প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল।স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরণের সেবামূলক কাজে আরও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বখতিয়ারের এই অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে কোনো বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।