
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক গৃহবধূকে কৌশলে অপহরণের পর দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নারীসহ ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার মূল হোতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা কবিতা (৩০)। তিনি ভিকটিমের সাথে আগে থেকেই সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ২৫ মার্চ বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন।
সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কবিতার খালাতো ভাই সালাম ইজিবাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ইজিবাইকে ওঠার পর কবিতা ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে কৌশলে আলমডাঙ্গা রোডের দিকে নিয়ে যায়।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা থানাধীন খাদিমপুর বেলেদারী এলাকার একটি নির্জন মাঠে ইজিবাইকটি থামানো হয়। সেখানে চালককে বিদায় করে দিয়ে আসামীরা ভিকটিমকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জনৈক খসরু মিয়ার আমবাগানে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামী আব্দুস সালাম, শাহাজাহান ও সামাদ আলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামী আদম আলী ও মিজান ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে আসামীরা ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং পুনরায় বড়বাজারে এনে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
ভিকটিম বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীর কাছে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন। এরপর আজ ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(৩)/৩০ ধারায় একটি মামলা (নং-৩৪) দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গঠন করা হয়। অভিযানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) অনুপ দাস এবং পাঁচকমলাপুর ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আহম্মদ আলী ও তাদের সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে বিভিন্ন এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ৬ আসামী হলো:
মিজান (৩৪), পিতা- নজরুল (খাদিমপুর) সামাদ আলী (২৫), পিতা- আছির উদ্দিন (খাদিমপুর) আদম (৩৪), পিতা- এনামুল হক (খাদিমপুর) শাহজাহান (৪৫), পিতা- মৃত তাহাজ্জেল বিশ্বাস (খাদিমপুর) আব্দুস সালাম (২৬), পিতা- দুলাল (শিয়ালমারি) কবিতা (৩০), স্বামী- ফয়সাল (সাতগাড়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর)
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে।
নাঈম উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার 






















