১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ফয়সাল-তাহেরি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬২ Time View

মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে এবার ভোটের মাঠ বেশ উত্তপ্ত। এই আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল ও ভাইরাল ইসলামী বক্তা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ভোট ব্যাংক এবং শিল্পপতি হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার নমনীয় আচরণ এবং নিয়মিত সহায়তা তাকে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

বিচ্ছিন্ন বিএনপিকে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন ফয়সাল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক মামলা ও তথাকথিত মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তিনি অনড় থেকেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি নেতানির্ভর প্রচারণার পরিবর্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের নতুন কৌশলও তাদের জন্য সহায়ক হচ্ছে।

অন্যদিকে, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি কোনোভাবেই ভোটের মাঠে হালকা প্রতিপক্ষ নন। যেখানে তিনি সভা করছেন, সেখানেই তরুণ ও প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তার বক্তব্যে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, মাজার ভাঙচুর ও উগ্রবাদী মববাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে তাহেরির একটি নীরব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ এবং চা বাগান এলাকায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছেন। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের একটি পুরনো বক্তব্য—যেখানে তাহেরিকে ভবিষ্যতের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—এটিও আলোচনায় ফিরে এসেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি ভোট ব্যাংকের বড় অংশও নীরবে তাহেরির দিকে ঝুঁকতে পারে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মীর গোপন সমর্থনও তিনি পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ভোট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাধবপুরের তুলনায় চুনারুঘাট উপজেলায় তাহেরির প্রভাব কিছুটা বেশি। জনসেন্টিমেন্ট বোঝা ও সেটিকে কৌশলে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তিনি বেশ দক্ষ বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ফয়সাল, অন্যদিকে নীরব কিন্তু শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা তাহেরি—এই দ্বৈরথে কে জিতবেন তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এটুকু স্পষ্ট, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

Tag :
এখন আলোচনায়

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ফয়সাল-তাহেরি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে এবার ভোটের মাঠ বেশ উত্তপ্ত। এই আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল ও ভাইরাল ইসলামী বক্তা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ভোট ব্যাংক এবং শিল্পপতি হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার নমনীয় আচরণ এবং নিয়মিত সহায়তা তাকে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

বিচ্ছিন্ন বিএনপিকে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন ফয়সাল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক মামলা ও তথাকথিত মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তিনি অনড় থেকেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি নেতানির্ভর প্রচারণার পরিবর্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের নতুন কৌশলও তাদের জন্য সহায়ক হচ্ছে।

অন্যদিকে, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি কোনোভাবেই ভোটের মাঠে হালকা প্রতিপক্ষ নন। যেখানে তিনি সভা করছেন, সেখানেই তরুণ ও প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তার বক্তব্যে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, মাজার ভাঙচুর ও উগ্রবাদী মববাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে তাহেরির একটি নীরব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ এবং চা বাগান এলাকায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছেন। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের একটি পুরনো বক্তব্য—যেখানে তাহেরিকে ভবিষ্যতের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—এটিও আলোচনায় ফিরে এসেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি ভোট ব্যাংকের বড় অংশও নীরবে তাহেরির দিকে ঝুঁকতে পারে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মীর গোপন সমর্থনও তিনি পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ভোট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাধবপুরের তুলনায় চুনারুঘাট উপজেলায় তাহেরির প্রভাব কিছুটা বেশি। জনসেন্টিমেন্ট বোঝা ও সেটিকে কৌশলে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তিনি বেশ দক্ষ বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ফয়সাল, অন্যদিকে নীরব কিন্তু শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা তাহেরি—এই দ্বৈরথে কে জিতবেন তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এটুকু স্পষ্ট, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।