
দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি, অপহরণ, মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তা, এক সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আল ফেরদৌস আলফা বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালতে মামলাটি করেন। মামলার নম্বর সিআর ১৭৪২/২৫।
আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাহউদ্দিন, সাবেক ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক ওসি ডিবি মহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেল।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিজিবি বাঁকাল চেকপোস্ট থেকে বাদীর দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে থানায় পাঠায়। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তৎকালীন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বাদীর কাছে দেড় কোটি টাকা দাবি করেন। সেদিন গভীর রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে দুইটি মাইক্রোবাসে পুলিশ তার পলাশপোলের বাড়ি ঘিরে ফেলে। তল্লাশির পর পিস্তল ঠেকিয়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে বাদী ১৫ লাখ টাকা দেন।
এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে চোখ–হাত বেঁধে ‘আয়নাঘর’-এ ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। মাছ আনার অভিযোগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার এক কোটি টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। ৩০ ডিসেম্বর রাতেও মাইক্রোবাসে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। রাতভর ঘোরানোর পর ৩১ ডিসেম্বর ভোরে আবার নির্যাতন করা হয়।
পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বাদী ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রিমান্ডের আবেদন হয়; যদিও জেলা জজ তা বাতিল করেন। দুই ভাই ১৯ দিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মামলায় উল্লেখ আছে, দেড় কোটি টাকার মাছ নিলামে মাত্র ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯২৫ টাকায় দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে বাদী সেই টাকা ফেরত পান এবং মামলা খারিজ হয়।
এ ছাড়া জামিন করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেল বাদীর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ শারীরিক নির্যাতনে বাদীর দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান বলেন, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডিকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ এপ্রিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 










