০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের দাবিতে উত্তাল চুয়াডাঙ্গা: মানবাধিকার দিবসে দলিত কোটা নিশ্চিতের দাবি

  • মোঃ নাঈম উদ্দীন
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

বিশ্বজুড়ে যখন ‘মানবাধিকার সনদ’ ঘোষণার ৭৭তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামল।

আজ, ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবিক মর্যাদা দিবস ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (BDERM) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সুসংগঠিত মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির প্রধান এবং একমাত্র দাবি ছিল—জাতীয় সংসদের সাধারণ (সরাসরি নির্বাচন) এবং সংরক্ষিত (নারীর জন্য) উভয় আসনেই জনসংখ্যার অনুপাতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট কোটা বা আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

বক্তারা বলেন, দশকের পর দশক ধরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও, দলিতরা এখনো মূলস্রোতের রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন। বৈষম্য বিলোপের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক শক্তি ও কণ্ঠস্বরের অভাব।

সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মঞ্চে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে দলিতদের জীবনমানের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বিপুল কুমার দাস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কিশোর কুমার কুন্ডু, সম্মানিত দাতা সদস্য, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সমন্বয়ক, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

তিনি দলিতদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, “১০ ডিসেম্বর আমরা কেবল দিবস পালন করি না, আমরা প্রতিজ্ঞা করি সকলের জন্য সমানাধিকার নিশ্চিত করার। দলিতরা যদি তাদের প্রাপ্য সাংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না পায়, তবে বাংলাদেশের মানবাধিকারের চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বাবু চিরু কুমার সাহা, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।
বাবু বাসুদেব হালদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, দামুড়হুদা।

জনাব দয়াল সরদার, সভাপতি, হরিজন মানবাধিকার সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।
বাবু নিশীথ ভূইমালি, সহ-সভাপতি, হরিজন মানবাধিকার সংস্থা সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

বিশেষ করে, জনাব মনোরঞ্জন মজুমদার (সদস্য সচিব, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট দামুড়হুদা উপজেলা শাখা) এবং বিডিইআরএম-এর তরুণ নেতৃত্ব সুমন কুমার হেলা (সাংস্কৃতিক সম্পাদক) ও জগন্নাথ দাস (অর্থ সম্পাদক) তাদের বক্তৃতায় দলিত যুবসমাজের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।

বক্তারা জোর দেন যে, এই দাবির বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক সংস্কার নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিশ্রুত সমতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির বাস্তবায়ন।

কর্মসূচিতে বিডিইআরএম-এর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের নৈতিক সমর্থন জানান।

নেতৃবৃন্দের মতে, দলিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতিগত বৈষম্য বিলোপ এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনে অপরিহার্য। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ

মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের দাবিতে উত্তাল চুয়াডাঙ্গা: মানবাধিকার দিবসে দলিত কোটা নিশ্চিতের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

বিশ্বজুড়ে যখন ‘মানবাধিকার সনদ’ ঘোষণার ৭৭তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামল।

আজ, ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবিক মর্যাদা দিবস ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (BDERM) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সুসংগঠিত মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির প্রধান এবং একমাত্র দাবি ছিল—জাতীয় সংসদের সাধারণ (সরাসরি নির্বাচন) এবং সংরক্ষিত (নারীর জন্য) উভয় আসনেই জনসংখ্যার অনুপাতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট কোটা বা আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

বক্তারা বলেন, দশকের পর দশক ধরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও, দলিতরা এখনো মূলস্রোতের রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন। বৈষম্য বিলোপের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক শক্তি ও কণ্ঠস্বরের অভাব।

সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মঞ্চে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে দলিতদের জীবনমানের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বিপুল কুমার দাস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কিশোর কুমার কুন্ডু, সম্মানিত দাতা সদস্য, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সমন্বয়ক, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

তিনি দলিতদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, “১০ ডিসেম্বর আমরা কেবল দিবস পালন করি না, আমরা প্রতিজ্ঞা করি সকলের জন্য সমানাধিকার নিশ্চিত করার। দলিতরা যদি তাদের প্রাপ্য সাংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না পায়, তবে বাংলাদেশের মানবাধিকারের চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বাবু চিরু কুমার সাহা, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।
বাবু বাসুদেব হালদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, দামুড়হুদা।

জনাব দয়াল সরদার, সভাপতি, হরিজন মানবাধিকার সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।
বাবু নিশীথ ভূইমালি, সহ-সভাপতি, হরিজন মানবাধিকার সংস্থা সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

বিশেষ করে, জনাব মনোরঞ্জন মজুমদার (সদস্য সচিব, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট দামুড়হুদা উপজেলা শাখা) এবং বিডিইআরএম-এর তরুণ নেতৃত্ব সুমন কুমার হেলা (সাংস্কৃতিক সম্পাদক) ও জগন্নাথ দাস (অর্থ সম্পাদক) তাদের বক্তৃতায় দলিত যুবসমাজের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।

বক্তারা জোর দেন যে, এই দাবির বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক সংস্কার নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিশ্রুত সমতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির বাস্তবায়ন।

কর্মসূচিতে বিডিইআরএম-এর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের নৈতিক সমর্থন জানান।

নেতৃবৃন্দের মতে, দলিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতিগত বৈষম্য বিলোপ এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনে অপরিহার্য। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।