০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুব্যবস্থা ও সুশাসন: আলমডাঙ্গা থানায় নবাগত এসপি’র ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করার প্রত্যয় নিয়ে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আজ (বুধবার) ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দুপুরে জেলার আলমডাঙ্গা থানা আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন।

ঠিক বেলা ০১:০০ ঘটিকায় শুরু হওয়া এই নিবিড় পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি কেবল থানার দাপ্তরিক কাজের খোঁজ নেননি, বরং ফোর্সের কর্মপরিবেশ, মনোবল এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের মান যাচাই করেন।

নবাগত এসপি’র এই আগমনকে জেলায় সুশাসন ও সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ সুপার পরিদর্শনের শুরুতেই থানার মূল কার্যালয়, অফিস কক্ষ, অস্ত্রাগার, হাজতখানা এবং মামলা সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘ইন-হাউস অডিট’ করেন। তিনি ব্যারাক, মেস এবং টয়লেটসহ ফোর্সের বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিশেষভাবে নজর দেন।

ব্যারাকের পরিচ্ছন্নতা ও মেসের খাবারের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, “ফোর্সের বাসস্থান যদি স্বাস্থ্যকর না হয়, তবে তাদের কর্মস্পৃহা বজায় রাখা কঠিন। মেসের খাবার অবশ্যই মানসম্মত ও পুষ্টিকর হতে হবে—এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আবশ্যিক।”

তিনি দ্রুত ফুড কমিটি গঠন করে খাবারের মেনু এবং মান তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও, ফোর্সের জরুরি প্রয়োজনে যৌক্তিক ও দ্রুত ছুটি মঞ্জুরের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার আলমডাঙ্গা থানার সকল অফিসার ও ফোর্সের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা শোনেন। তাঁর বক্তব্যে ‘জনবান্ধব পুলিশিং’ ছিল মূল প্রতিপাদ্য।

তিনি পুলিশ সদস্যদেরকে জনগণের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হতে নির্দেশ দেন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক নাগরিকদের আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে যেন কোনো গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।

মাদক ব্যবসা ও ব্যবহারকে জেলার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে আপসহীন। এই অভিশাপ থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় প্রয়োজন হলে আমরা কঠোরতম ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় মাদক বিক্রেতা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি-ডাকাতি এবং সাইবার অপরাধের মামলাগুলো যেন দ্রুত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে তদন্ত হয়, তার ওপর জোর দেন।

পুলিশ সুপারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বানী ইসরাইল। এছাড়াও থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স সদস্যবৃন্দ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

এই পরিদর্শনের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বদ্ধপরিকর।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ

সুব্যবস্থা ও সুশাসন: আলমডাঙ্গা থানায় নবাগত এসপি’র ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করার প্রত্যয় নিয়ে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আজ (বুধবার) ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দুপুরে জেলার আলমডাঙ্গা থানা আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন।

ঠিক বেলা ০১:০০ ঘটিকায় শুরু হওয়া এই নিবিড় পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি কেবল থানার দাপ্তরিক কাজের খোঁজ নেননি, বরং ফোর্সের কর্মপরিবেশ, মনোবল এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের মান যাচাই করেন।

নবাগত এসপি’র এই আগমনকে জেলায় সুশাসন ও সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ সুপার পরিদর্শনের শুরুতেই থানার মূল কার্যালয়, অফিস কক্ষ, অস্ত্রাগার, হাজতখানা এবং মামলা সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘ইন-হাউস অডিট’ করেন। তিনি ব্যারাক, মেস এবং টয়লেটসহ ফোর্সের বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিশেষভাবে নজর দেন।

ব্যারাকের পরিচ্ছন্নতা ও মেসের খাবারের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, “ফোর্সের বাসস্থান যদি স্বাস্থ্যকর না হয়, তবে তাদের কর্মস্পৃহা বজায় রাখা কঠিন। মেসের খাবার অবশ্যই মানসম্মত ও পুষ্টিকর হতে হবে—এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আবশ্যিক।”

তিনি দ্রুত ফুড কমিটি গঠন করে খাবারের মেনু এবং মান তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও, ফোর্সের জরুরি প্রয়োজনে যৌক্তিক ও দ্রুত ছুটি মঞ্জুরের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার আলমডাঙ্গা থানার সকল অফিসার ও ফোর্সের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা শোনেন। তাঁর বক্তব্যে ‘জনবান্ধব পুলিশিং’ ছিল মূল প্রতিপাদ্য।

তিনি পুলিশ সদস্যদেরকে জনগণের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হতে নির্দেশ দেন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক নাগরিকদের আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে যেন কোনো গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।

মাদক ব্যবসা ও ব্যবহারকে জেলার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে আপসহীন। এই অভিশাপ থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় প্রয়োজন হলে আমরা কঠোরতম ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় মাদক বিক্রেতা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি-ডাকাতি এবং সাইবার অপরাধের মামলাগুলো যেন দ্রুত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে তদন্ত হয়, তার ওপর জোর দেন।

পুলিশ সুপারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বানী ইসরাইল। এছাড়াও থানার সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স সদস্যবৃন্দ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

এই পরিদর্শনের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বদ্ধপরিকর।