
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২৫ (২৫ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) উপলক্ষে “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় র্যালি, আলোচনা সভা ও ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিন সকালে কর্মসূচির সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে। “আমিই রোকেয়া” স্লোগানকে সামনে রেখে র্যালিটি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এরপর উপজেলা চত্বরে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কার্যক্রমের আওতায় অদম্য নারীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে এইচ তাসফিকুর রহমান, নিবার্হী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), দামুড়হুদা উপজেলা। সভায় সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহান।
সভায় বক্তারা নারী ও কন্যার প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি কে এইচ তাসফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “সহিংসতা কেবল শারীরিক নয়, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং ডিজিটাল মাধ্যমেও হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধ করে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, নারীরা সমাজের অর্ধেক শক্তি, তাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
সভাপতি হোসনে জাহান বলেন, “নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বেগম রোকেয়ার মূল বার্তা। আজ আমরা ‘আমিই রোকেয়া’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে চাই। তৃণমূল পর্যায় থেকে অদম্য নারীদের খুঁজে বের করে তাদের সম্মান জানানো আমাদের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”
আলোচনা সভা শেষে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা এবং প্রতিকূলতা জয় করা ৫ জন অদম্য নারীকে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান করা হয় ( ৩ জন কে উপজেলা পর্যায়ে এবং ২ জন কে জেলা পর্যায়ে পুরস্কার প্রদান করেন)।

প্রধান অতিথি উপজেলা কে এইচ তাসফিকুর রহমান নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এবং সভাপতি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ পুরস্কৃত অদম্য নারীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
এই সম্মাননা সমাজে অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে সকলে মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অনুষ্ঠানটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোঃ নাঈম উদ্দীন 
























